valobasar golpo

মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৫

মুরগিরা কেন লম্বা হলো না



শিক্ষক জিজ্ঞেস করলেন পল্টুকে, ‘বল তো পল্টু, মুরগিরা কেন জিরাফের মতো লম্বা হলো না?’

পল্টু: কারণ, তাহলে ডিম মাটিতে পড়েই ফটাস করে ভেঙে যেত।
posted from Bloggeroid

http://valobasah.blogspot.com/2015/11/md-yousuf-ali.html

md yousuf ali

মুরগিরা কেন লম্বা হলো না

শিক্ষক জিজ্ঞেস করলেন পল্টুকে, ‘বল তো পল্টু, মুরগিরা কেন জিরাফের মতো লম্বা হলো না?’
পল্টু: কারণ, তাহলে ডিম মাটিতে পড়েই ফটাস করে ভেঙে যেত।

posted from Bloggeroid

সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৫

কোনো এক সুন্দর সকালে একদিন ঘুম থেকে উঠে রতন তাঁর স্ত্রীকে বললেন, ‘আজকের সকালটা সুন্দর।’ পরদিনও ঘুম থেকে উঠে রতন বললেন, ‘আজকের সকালটা সুন্দর।’ এর পরদিনও একই ঘটনা। এভাবে এক সপ্তাহ পেরোনোর পর রতনের স্ত্রী বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘প্রতিদিন এই কথা বলার মানে কী?’ রতন: সেদিন ঝগড়ার সময় তুমি বলেছিলে, কোনো এক সুন্দর সকালে তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে।

শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৫

মাঝে মাঝে মনের মানুষটাকে খুব বেশি আপন করে কাছে পেতে ইচ্ছে করে । ইচ্ছে করে মন খুলে বলি তাকে মনের গহিনে লুকিয়ে রাখা প্রতিটা অনুভূতি, ভালবাসার মিষ্টি মধুর প্রলাপ – যে কথাগুলো তাকে বলার জন্য সাজিয়ে রেখেছি বুকের ভেতর অনেক যত্ন করে । যে অনুভূতি গুলো আমার স্বপ্ন দিয়ে রচনা করেছি শুধুই তার জন্য । কোন একদিন মেঘলা বিকেলে যদি থাকি পাশাপাশি দুজন , অথবা ঝুম বৃষ্টিতে তার হাত ধরে ভিজি কোন এক বর্ষায় , কিংবা নিঝুম রাত্রিতে কল্পনার ছেঁড়া সুতোয় সপ্নের মালা গাঁথি একসাথে – একবার জানাই তাকে আমার মনের খবর । কান পেতে শুনুক সে আমার হৃদয়ের কম্পন,যার প্রতিটা স্পন্দনে শুধু তার নাম । অনুভব করুক সে আমার দীর্ঘশ্বাস , যাতে শুধু তাকে বলতে না পারার যন্ত্রণা । একবার শুধু তার দুহাত ধরে চোখে চোখ রেখে বলি – ভালবাসি, ভালবাসি শুধু তোমাকে...।।
জীবনে যা পাননি তা নিয়ে কখনও আফসোস বা হতাশা করতে নেই। পেলাম না পেলাম না, সময় ফুরিয়ে গেছে, কিংবা কিছু জিনিস জীবনে একবারই আসে ইত্যাদি ইত্যাদি বলে যারা দিনরাত নিজের কপাল চাপড়ায়, দুঃখজনক হলেও সত্যি যে তারা কপাল চাপড়াতে গিয়ে নিজের অমূল্য সময়গুলো নষ্ট করে, সামনে যা পাবার ছিল সেগুলোকেও লাথি মেরে দূরে সরিয়ে দেয়। মন থেকে বিশ্বাস করতে শিখুন, আপনি কিছু জিনিস পাননি, কারন এর চাইতেও হাজারগুণ ভাল কিছু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে......।।
কোথায় আছো খুঁজে ফিরি আজো আমি, কোথায় আছো প্রেম আমার,কার ছায়ায় অভিনয় করছ তুমি, হৃদয় তোমার আজো আমার প্রেমে বন্দী। চেনা অনুভব, অচেনা এ সুর, আড়াল থেকে তবু ডাকি, চেনা অনুভব, অচেনা এ সুর, আড়াল থেকে তবু ভালোবাসি.......।।
এক মুহুর্তে চলে যাওয়া এক মুহুর্তে ফেরা, ,এক মুহুর্তে নীরব ঠিকি পরক্ষনেই জেরা। এক মুহুর্তে ঘুমাও তুমি এক মুহুর্তে জাগো, এক মুহুর্তে শান্ত তুমি এক মুহুর্তে রাগো, এক মুহুর্তে দূরে সরাও আবার কাছে ডাকো, তোমার এমন এক মুহুর্ত হাজার থেকে লাখো। এক মুহুর্তে জলে ভাসো এক মুহুর্তে ক্ষরা, এক মুহুর্তে উদার তুমি পরক্ষনেই করা। এক মুহুর্তে অবুঝ তুমি এক মুহুর্তে বোঝো, এক মুহুর্তে হারাতে মন এক মুহুর্তে খোঁজো......।।
জেগে আছি ঘুম জড়ানো রাতে তো, জেগে আছি স্বপ্ন হয়ে সাথে তো। ইচ্ছে করে তোর শহরে থাকতে সন্ধ্যা সকাল, ইচ্ছে করে জ্বালতে আলো জ্বালাতে রং মশাল। জেগে আছি ঘুম জড়ানো রাতে তো, জেগে আছি স্বপ্ন হয়ে সাথে তো। মনে মনে ফুটে আছে ফুল হয়ে, আনমনে করে ফেলা ভুল হয়ে......।।
এ কি অপরূপ সুন্দর তার স্বপ্নের বর্ষা রাতে; আমি ভিজে ভিজে মরি মিছে মগ্ন প্রভাতে… দেখি ভীষণ অন্ধকার মাঝে, আলো ছায়ায় তার নূপুর বাজে! আমি যে ভেবে ভেবে শিহরিত…....।।

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৫

valobasahr Golpo: paglu

valobasahr Golpo: paglu: <<< পাগলু >>> ১. চোখে মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি নিয়ে টিভির দিকে তাকিয়ে আছে ত্রিনা । কলকাতার সুপারহিট হিরো দেবের একটা মুভি চ...
<<< সোনালী মোড়কে মোড়া কষ্ট গুলো >>> অপূর্ব সুন্দর চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে ঘর। আটপৌরে মশারীর শরীর গলে সেই আলো চুইয়ে এসে পড়ছে বিছানায়। তার পাশে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকা রুপার মুখটা জোছনার আলোতে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে দ্বীপ। পালিয়ে যাবার আগের রাতে হয়তো কোন মানুষই ঘুমাতে পারেনা। হ্যাঁ, আগামীকাল সন্ধ্যায় পালিয়ে যাবে দ্বীপ। চলে যাবে এই মায়ার বাঁধন ছেড়ে। বড় পলকা হয়ে গেছে এই বাঁধন। নিজ থেকে কোন সময় ছিঁড়ে গিয়ে কিছু তিক্ততা সৃষ্টি করার আগেই পালিয়ে যাচ্ছে সে। যদিও সে নিজে ছাড়া ব্যাপারটা আঁচ করতে পারছেনা কেউই। সব কিছুই চলছে ঘড়ির কাঁটা ধরে নিখুঁত ভাবে। নিজে কিছুটা এলোমেলো চললেও তার আশপাশটা গুছিয়ে রাখার, সামলে চলার চেষ্টা করে সে। কিছু কিছু পরিকল্পনা ঠাণ্ডা মাথায় বাস্তবায়ন না করলে বড় ধরণের ভুল থেকে যাবার সম্ভাবনা থাকে, এক্ষেত্রে সে কোন ভুল করতে চায় না। তাই গত এক বছরে একটু একটু করে সে এগিয়েছে তার প্লান মাফিক। আগামীকাল সেই প্ল্যানের চূড়ান্ত দিন। ভালবাসা অদ্ভুত এক বাঁধন। অজানা অচেনা একটা মানুষকে কি ভয়াবহ আকর্ষণে কাছে টেনে আনে ভালবাসা। তার কাছে মন খুলে সব কিছু বলা যায়, পরম নির্ভরতায় ধরা যায় তার হাত। নিজের সুখটা গৌণ হয়ে দাঁড়ায় তখন, তার জন্য কিছু একটা করতে পারলে জীবন সার্থক মনে হয়। পাগলের মত তার মায়াভরা মুখটা, হাসিটা, চোখের তারায় ভালবাসাটুকু দেখতে ইচ্ছে করে। মনে মনে অস্ফুটে হাজারবার বলতে ইচ্ছে করে – ভালবাসি, ভালবাসি, ভালবাসি ... প্রথম দেখায় কি প্রেম হয়? হয় না আসলে। শুধু আকর্ষণ জন্মে, মায়া তৈরি হয়। ডিমের ভেতরের কুসুমের মত, তুলতুলে গাঢ় মায়া। তার চারপাশে তখনও অনিশ্চয়তার মেঘ। হয়তো ভালবাসা হবে, হয়তো না। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই প্রথম দেখার ভাল লাগাটুকু অব্যক্তই থেকে যায়। কিছুদিন মন অশান্ত থাকে, পরে এক সময় এই সময়র কথা চিন্তা করে হাসি পায়। ঠিক এমনটাই কিন্তু হতে পারতো দ্বীপের জীবনে। কিন্তু হয়েছে তার উল্টোটা। প্রথমবার রুপাকে দেখার পর তার মাঝে কোন প্রতিক্রিয়াই তৈরি হয়নি। আর দশটা সদ্য পরিচিত মেয়ের বাইরে কিছুই মনে হয়নি সাদা জামা পড়া, লিকলিকে মেয়েটাকে। স্বভাব সুলভ ভাবে দূরত্ব বজায় রেখে গেছে, কথাও বলেনি বেশী। কিন্তু পরিচয়ের কয়েকদিনের মাথায় দ্বীপের মনে হয়েছে এই মেয়েটা ভেতর ভেতর অনেক একা। তার সাথে থাকা চটপটে আধুনিক মেয়েগুলোর মত প্রগলভ নয় সে, নয় জামা কাপড়ে উগ্র আধুনিকা। তবুও কেমন যেন একটা স্নিগ্ধতা ঘিরে থাকে রুপাকে। এখনও সেই স্নিগ্ধতাটুকু ঘুমন্ত রুপার মুখে এখনও দেখে দ্বীপ। তার খুব ইচ্ছে করে রুপার গোলাপ ঠোঁটে একটা চুমু খায়, কিন্তু না, সেদিনের সেই রুপা আর আজকে তার ঘুমন্ত স্ত্রী রুপার মাঝে যোজন যোজন তফাত। কি আশ্চর্য সুন্দর ছিল সেই সময়গুলো। প্রতিদিন খুব সকালে উঠে গোসল সেরে বেড়িয়ে যাওয়া। এরপর এক সাথে ব্রেকফাস্ট করে রুপাকে ক্লাসে পৌঁছে দিয়ে ক্লাসে যেতো দ্বীপ। যার আগে ক্লাস শেষ হতো, সে অপেক্ষা করতো অন্যজনের জন্যে। ক্লাসমেটরা খেপাতো দুজনকেই। তাতেও লজ্জা মাখা আনন্দ ছিল। প্রতিটা দিন যেন নতুন আনন্দে ভরে থাকতো। সবার চোখ এড়িয়ে হাত ধরা, পাশাপাশি হাঁটার সময় একটু বেশী কাছে চলে আসা। দ্বীপের হাত জড়িয়ে ধরে নিশ্চিন্ত পদক্ষেপে চলা রুপার অস্তিত্ব, রুপার সুগন্ধ খুব বেশী ভাল লাগতো তখন। এখনও লাগে, এখনও সদ্যস্নাতা রুপাকে সুযোগ পেলেই জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করে দ্বীপ, ফলাফল বেশীর ভাগ সময়েই – এক ধাক্কায় কুপোকাত। নাহ ... রুপাকে সে কিছুই বুঝতে দেয়নি। মেয়েটা জানতেও পারেনি কত বড় ক্ষতি সে করে ফেলেছে। সম্পর্কের ছয় মাসের মাথায় যেদিন রুপা ওকে বললো “চলো বিয়ে করে ফেলি”, শুনে দ্বীপ কেমন যেন একটা ধাক্কা খেয়েছিল মনে মনে। প্রেম আর বিয়ের মধ্যে অনেক তফাত। প্রেম তো শুধু মুক্ত বিহঙ্গের মত ওড়া উড়ি, আর বিয়ে অনেক বড় একটা দায়িত্ব। আমাদের সমাজে নিজের পছন্দের ছেলে বা মেয়ের ব্যাপারে বাবা মাকে রাজী করানোটাই দূরহ ব্যাপার। কোন এক অজানা কারণে বাবা মা সব সময়েই ধরে নেন যে তার সন্তানের পছন্দের ছেলে বা মেয়েটি মোটেও ভাল না। এই অবস্থা থেকে তাদের রাজী করানোতে অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হয়। তারপর শুরু হয় আত্মীয়স্বজনের আজব সব যুক্তি দিয়ে বিয়ে বন্ধ করবার পায়তারা। কখনও মেয়ের বাবার দূর সম্পর্কের ভাইয়ের মাথা খারাপ ছিল, কখনও ছেলের ফ্যামিলিতে একজন হত-দরিদ্র মানুষ আছেন – এই ধরনের আজব সব ইতিহাস বের হয়ে আসে তখন। সবার ক্ষেত্রেই মোটামুটি এমনটাই ঘটে। তাই “বিয়ে করে ফেলি” বলাটা যত সহজ, সেটাকে কাজে পরিণত করাটা তার চাইতে শতগুণ বেশী জটিল। কয়েকদিন পরে রুপাই বলেছিল ওর রুমমেট অলরেডি বিয়ে করে ফেলেছে, কিছুদিনের মধ্যেই আলাদা বাসা নিয়ে হল ছেড়ে দেবে ওরা। শুনে বেশ সাহস পায় দ্বীপ। আসলে একটা বয়স থাকে, যখন নিয়ম ভাঙ্গাটাই আনন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আর ভালবাসার মানুষটাকে কাছে পাবার সুতীব্র আকাঙ্ক্ষাটা তো আছেই। ব্যাপারটা সবটুকুই শরীর নির্ভর নয় অবশ্যই। ভালবাসার মানুষটির সাথে সারাক্ষণ থাকাটাই মুখ্য। এরপর কত হিসেব নিকেশ করে, বুঝে শুনে, স্বপ্ন বুনতে বুনতে একদিন ওদের বিয়েটাও হয়ে গেল। সেদিন কোর্টের হলফ নামায় সাইন করার সময় ওদের প্রিয় বন্ধুরা সাথেই ছিল। দ্বীপ সাইন করে দিয়েছিল সাথে সাথেই, রুপাই যেন থমকে গিয়েছিল কলম হাতে নিয়ে। ওর চোখে মুক্তোর মত জমেছিল অশ্রু, গড়িয়ে পড়েছিল গাল বেয়ে। বন্ধুবান্ধব সবাই সরে গেল এই দৃশ্য দেখে, পার্কের বিশাল ছাতার নীচে তখন রুপা আর দ্বীপ, সামনে অনাগত অদেখা ভবিষ্যৎ, ভরসা শুধু – দুজনের চলার পথটা এক। সেদিন বিকেলে মসজিদের ইমাম সাহেবের বাসায় গিয়ে যখন ধর্ম মতে বিয়েটা পড়ানো হলো, তখন রুপা একেবারে নববধূ। লজ্জা মাখা চাহুনী, মাথায় ঘোমটা টেনে হয়ে উঠেছিল এক্কেবারে নতুন একটা বউ। দ্বীপ তখন এক আকাশ আনন্দে ভাসছে, নিজেকে হটাতই খুব পরিণত আর দায়িত্ববান বলে মনে হচ্ছিল ওর। এরপর সবাই মিলে একসাথে ডিনার করতে যাওয়া। খুব আনন্দ করা হয়েছিল সেদিন। ডিনার শেষে হোটেলের ছোট্ট রুমে বাসর। রুপার বান্ধবীরা পাঁচ মিনিটে ফুল দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছিল বিছানাটা। গায়ে হলুদের রঙ পড়েনি ওদের গায়ে, সাজানো স্টেজে গয়না মোড়া বউ হয়েও বসতে পারেনি রুপা, ওর বিয়ের উপহার ছিল ছোট্ট একটা স্বর্ণের নাক ফুল আর এত্ত এত্ত ভালবাসা। বিয়ের পর সব কিছুই হয়তো বদলে যায়। আর এই বদলে যাওয়াটাই এক সময় খুব প্রকট হয়ে ধরা দেয় চোখে। আশাহত হয় দুজনেই। কিন্তু এটাই নিয়ম, এটা অবশ্যম্ভাবী, এটাই হয়, সবার ক্ষেত্রেই হয়। বিয়ের আগে প্রেমের মুহূর্তগুলো কাটে স্বপ্নে স্বপ্নে, বিয়ের পর সেই স্বপ্নটা ফিকে হতে থাকে। আসলে – বিয়ের আগে তীব্র একটা চাওয়া থাকে দুজন দুজনকে কাছে পাবার। যতবার দেখা হয়, সুন্দর পোষাকে সেজে গুজে আসে দুজনেই। নিজেদের ছোটখাটো দোষ ত্রুটি গুলো লুকিয়েই রাখে তারা। ছোট ছোট উপহারে একে অন্যকে চমকে দিতে পছন্দ করে। আর বিয়ের পর সকালে জেগে উঠে ঘুমুতে যাওয়া পর্যন্ত আটপৌরে মানুষ দুটো থাকে এক সাথে। ক্রমে ক্রমে কমে আসে ভালবাসার সেই তীব্রতা। জন্ম হয় আজীবন পাশে থাকার, নির্ভরতার, বিশ্বাসের একটা নতুন অধ্যায়। ছেলেরা চিন্তা চেতনায় আর দৈনন্দিন জীবনে ব্যস্ত হয়ে যায় সংসার চালানোর খরচ যোগাতে, আর মেয়েরা তখন হয়ে ওঠে পুরোদস্তর গৃহিনী। সকালে নাস্তা কি দিয়ে হবে, বাজার থেকে কি আনতে হবে, কি রান্না হবে, এসব প্র্যাক্টিকাল বিষয় গুলো প্রাধান্য পেতে থাকে জীবনে। ফলে ভালবাসার সময়ের সেই কপোত কপোতী ভাবটা আগের মত আর থাকে না। একটা সময় দুজনেই খেয়াল করে, তাদের জীবনটা কোথায় যেন থেমে গেছে। দুজনেই অনুভব করে – ভালবাসাটা আর আগের মত নেই। শুরু হয় অভিযোগ, জন্ম নেয় অভিমান। আসলে বদলে গেছে দুজনেই। নিজের পরিবর্তনটা চোখে পড়েনা কারওই। রুপা আর দ্বীপের জীবনেও ঠিক এমনটাই ঘটতে লাগলো। বুকের মাঝে অভিমানের পাহাড় গড়ে দুজনেই পথ চলতে লাগলো। এক রাতে এক কথা দু’কথায় বেড়িয়ে এলো রুপার চাঁপা অভিমান। স্তব্ধ হয়ে শুনে গেল দ্বীপ। অনুভব করলো, রুপার বলা কথা গুলো মোটেও মিথ্যে নয়। তবুও মুখ ফুটে বলতে পারলো না রুপার ব্যাপারে জমে ওঠা তার অভিমানের কথা। মায়া বড় আজব অনুভূতি। রুপার অভিযোগ গুলো শুনে ওর যেমন কষ্ট লাগছে, সে চায়নি রুপাকেও ঠিক এভাবে কষ্ট দিতে। বরং এর পরের সময়গুলোতে সে চেষ্টা করেছিল নিজেকে বদলে ফেলার, আবার আগের মত সুন্দর সময়টাকে ফিরিয়ে আনবার। সবার জীবনেই কিছু অতীত থাকে, যেটা মেনে নিতে হয়। ওদের দুজনেরই হয়তো ছিল, ওরা মেনেও নিয়েছিল সব। কিন্তু একদিন – সেদিন রুপা ছিল ইউনিভার্সিটিতে, ওর ফেরার সময় পেড়িয়ে যাওয়ায় দ্বীপ হাটতে হাটতে এগুচ্ছিল ইউনিভার্সিটির দিকে, এমন সময় রুপাকে সে দেখতে পেলো বড় দিঘীটার পাড়ে, একা। দ্রুত হেঁটে রুপার কাছে গিয়েই দেখে ওর চোখ ভরা জল। দ্বীপের পৃথিবীটা এলোমেলো হয়ে গেল যেন মুহূর্তেই। যে মেয়েটা পরম নির্ভরতায় তার হাত ধরে তার সাথে চলে এসেছে, তার চোখে অশ্রু আসবে কেন? কি করেছে দ্বীপ? সে তো চেষ্টা করেই যাচ্ছে আগের মত করে রুপাকে সময় দেবার, নিজের ভুল গুলো শুধরে নেবার। সেদিন রাতে কিচ্ছু খায়নি রুপা। বিছানায় বসে বসে কেঁদেছে শুধু। এক সময় বলেছে তার মন খারাপের কারণ। যে ছেলেটাকে রুপার ভাল লাগতো, সে ভার্সিটি ছেড়ে যাবার সময় রুপাকে তেমন কোন আশ্বাস দিয়ে যায়নি। ওদের মাঝে সম্পর্কটা ফরমাল হতে হতেও হয়নি তখন, শুধু দুজনেই জানতো – ওরা দুজন দুজনকে ভালবাসে। কাজেই এক্ষেত্রে কমিটমেন্টের কিছু ছিলও না হয়তো। সেই ছেলেটা চলে যাবার পর রুপার সম্পর্ক ও বিয়ে হয়ে যায় দ্বীপের সাথে। এটা রুপার খুব ক্লোজ কিছু বন্ধুবান্ধব ছাড়া আর কেউ জানতো না। যা হোক, আজ প্রায় এক বছর পেড়িয়ে যাবার পর সেই ছেলে চিঠি দিয়েছে রুপাকে। ছেলেটা ভাল একটা জব পেয়েছে। এখন সে তৈরি রুপাকে বিয়ে করে ঘরে নেবার জন্য। সে কারণে রুপার ভাষায় – তার ‘মরে যেতে’ ইচ্ছে করছে এখন। ভালবাসার মানুষকে আর যাই হোক, কারও সাথে শেয়ার করা যায় না, এক বিন্দুও না ... দ্বীপ আচমকা খুব বড় একটা আঘাত পেয়েছিল সেদিন। কিন্তু কিছুই বুঝতে দেয়নি রুপাকে। সারাটা রাত ওকে জড়িয়ে ধরে বসে ছিল। কারণ দ্বীপ জানে, রুপা তো এখন তার। ছেলেটা রুপার অতীত। যে গেছে, সে চলেই গেছে, সে আর রুপার জীবনে ফিরে আসবে না। পরবর্তী দিনগুলোতে দ্বীপ চেষ্টা করে গেছে রুপাকে আরও বেশী ভালবাসায় ভরিয়ে দেবার। একটা সময় সে ভেবেছে যে ওই ছেলেটার ছায়া সরে গেছে রুপার মন থেকে। এরপর অনেক ঘটনায় অনেকটা সময় পেড়িয়ে গেছে। না না ঝামেলা করে দুজনার পরিবারকে রাজি করানোও গেছে। কোন এক শুভ মুহূর্তে রুপাকে সে তুলে এনেছে তার ঘরে। রুপা এখন তাদের বাসাতেই থাকে। কিন্তু চাকুরীর কারণে দ্বীপকে চলে যেতে হয়েছে অন্যখানে। নতুন চাকুরী, যে বেতন দেয় তা দিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকা সম্ভব নয় বলে একাই গেছে যে। তবুও প্রতি সপ্তাহে বাসায় আসে দ্বীপ, আর লক্ষ্য করে রুপা কেমন যেন বদলে গেছে, বদলে যাচ্ছে আরও। কারণে অকারণে রুপা অনেক বেশী রিএক্ট করে এখন। খুব বেশী রাগ করে আর কেমন যেন আনমনা থাকে সারাক্ষণ। ক্রমে ক্রমে অবস্থাটা এমন হয়ে দাঁড়ায়, দ্বীপ সময় গোনে, রুপা ঠিক কতক্ষণ ওর সাথে রাগারাগি করেনি। সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকে সে, এই বুঝি রুপা রেগে গেল। সপ্তাহ শেষে ফিরে যাবার সময় হলে দ্বীপ যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে। রুপার কাছ থেকে দূরে গিয়েই যেন ভাল থাকে। যতক্ষণ ফোনে কথা হয়, ততক্ষণ রুপা সেই আগের মতই, তার লক্ষ্ণী বউটা হয়ে থাকে। কিন্তু কাছে এলেই সব ওলট পালট হয়ে যায়। দ্বীপ যেটা ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করেনি, সেটাই ঘটলো এক সময়। পর পর দু তিন দিন রাতের বেলা ফোন দিয়ে দ্বীপ রুপার ফোন বিজি পায়। বাসায় এসে একদিন দেখে অনেক রাতে রুপা উঠে গিয়ে বারান্দায় এক কোণে বসে কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে। আগে ও এমনটা করেনি, কিছু যেদিন করলো, সেদিনই দ্বীপ টের পেয়ে গেল কিছুটা। কয়েক ঘণ্টা পর রুপা বাথরুমে গেলে দ্রুত হাতে দ্বীপ টুকে নিলো লাস্ট কলের নম্বরটা। পরের দিন ওই নম্বরে কল দিয়ে জেনে গেল এটা সেই ছেলেটার নম্বর, যার সাথে রুপার সম্পর্ক হতে হতেও হয়নি। এরপরের দিনগুলো দ্বীপের জন্য ছিল চরম যন্ত্রণাদায়ক। নিজেকে অনেক বুঝিয়েছে সে, বুঝিয়েছে রুপা এখন তার বিবাহিতা স্ত্রী। নিজের স্ত্রীর উপর অবিশ্বাস করবার কারণে আত্মদহনটাও নেহাত কম ছিল না। তবুও এ জ্বালা বড় বেশী কষ্টদায়ক। সে বার একদিন ছুটি নিয়ে আগেভাগেই বাসায় চলে আসে দ্বীপ, এক সময় রুপাকে জিজ্ঞেস করে ওই ছেলেটির কথা। রুপা স্পষ্টতই এড়িয়ে যায়, বলে – সেই ছেলের সাথে ওর কোন যোগাযোগ নেই। উলটো দ্বীপকে পুরনো কথা মনে করেছে বলে না না কথা শুনিয়ে দেয়, প্রচণ্ড রাগে এক সময় বাসা ছেড়ে চলে যাবার হুমকিও দেয় রুপা। দ্বীপ স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে। বুঝতে পারে, সে আর তার পুরনো অবস্থানে নেই। তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তৃতীয় একজন ওদের জীবনে ভাল ভাবেই ঢুকে পড়েছে। ছেলেদের মধ্যে দুই ধরনের মানুষ থাকে। একদল কেড়ে নিতে পছন্দ করে, আরেকদল করে না। ওরা দেবতার মত, সঠিক নৈবদ্দ্যে তুষ্ট। প্রয়োজনে কিছুই নেবে না, তবুও হাত পাতবে না কারও কাছে। দ্বীপ দ্বিতীয় দলের মানুষ। রুপার এই পরিবর্তনে ওর ভেতরটা ভেঙ্গে চুড়ে গেলেও সে কাউকেই কিছু বুঝতে দেয় না, রুপার প্রতি স্বামী হিসেবে, প্রেমিক হিসেবে তার কর্তব্যতে একচুল পরিবর্তন আসে না। শুধু মনে মনে সে জানে, এক বিছানায় ঘুমিয়েও রুপা চলে গেছে শত মাইলের দূরত্বে। প্রতি সপ্তাহে দ্বীপ বাড়ী ফেরে, একটু একটু করে রুপার বদলে যাওয়া দেখে। রুপা এখন প্রতি রাতে কয়েক ঘণ্টা কথা বলে ওই ছেলেটির সাথে। যেন লুকোচুরির আড়ালটাও ভেঙ্গে গেছে। যদিও দ্বীপকে সে বলে, দ্বীপের অনুপস্থিতির কারণে বন্ধু বান্ধবের সাথে কথা বলাটা তার অভ্যেস হয়ে গেছে, তবুও দ্বীপ তো জানে সত্যিটা। সেই সময় থেকেই দ্বীপের পালিয়ে যাবার পরিকল্পনা। দূরের কোন মসজিদের আজানের শব্দ ভেসে আসে। আর কয়েক ঘণ্টা পরেই দ্বীপ তার চেনা পরিবেশ ছেড়ে চলে যাবে অনেক দূরে। সবাই জানে বাইরের দেশে পড়তে যাচ্ছে সে। কিন্তু সে নিজে জানে, আর কোন দিনই তার ফেরা হবে না এদের কাছে। দূরে চলে গিয়ে সে এক সময় মুক্ত করে দেবে রুপাকে। কাছে থেকে এই কাজটা করা অসম্ভব। অনেক বেশী ভাল সে রুপাকে বাসে। কিন্তু রুপা ... যে তার এই ভালবাসার বাঁধনে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে পারেনি, বরং জড়িয়ে গেছে অন্য একটা মোহের জালে, তাকে ডেকে ফেরানো অসম্ভব। ভাঙ্গা আয়নার মত ভাঙ্গা সম্পর্ক বয়ে বেড়ানোর কোন মানে হয় না। কিছু কিছু মানুষ এমন হয়। তারা জানে যে তারা ভুল করছে। তুচ্ছ কারণে দিচ্ছে অনেক বড় মূল্য। নিজের হাতে নষ্ট করতে যাচ্ছে তার নিজের জীবন। তবুও ... তারা কিছুতেই ফেরাতে পারেনা নিজেকে। কিছুতেই না ... ---------------- সমাপ্ত ------------------
<<< সোনা বউ >>> মিমি আমার হাতটা ওর মুঠোর মধ্যে ধরে রাখে ... আমার দুচোখ বেয়ে জলের ধারা গড়াচ্ছে, কিছুতেই থামাতে পারছিনা আমি। ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটের সাদা বিছানার চাঁদর চোখের জলে ভিজে যাচ্ছে। আমার খুব ইচ্ছে করছে এখান থেকে ছুটে পালিয়ে যাবার। আমি সহ্য করতে পারছি না কিছুতেই। একেবারেই সহ্য করতে পারছিনা এই পরিস্থিতি। মিমি তাই আমার হাত ধরে আছে। - আমাকে ছেড়ে যেওনা তুমি, প্লিজ। আমার ভয় করে। আমার খুব ইচ্ছে করছে ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁদি। ছেলে মানুষের কান্নাটা ফুরিয়ে যায় সেই ছোটবেলাতেই। এর পর ছেলেরা আর কাঁদে না, কাঁদতে পারেনা, অথবা কাঁদতে হয় না। পুরুষ মানুষ হবে পাথরের মত। শত আঘাতেও থাকবে স্থির। আমিও তো এমনই ছিলাম। আবেগ জিনিসটাকে প্রশ্রয় দেইনি কখনও। কিন্তু আজ আমার ভেতরের পাথর চাঁপা আবেগ গলে গিয়ে অগ্নিগিরির লাভার স্রোতের মত আমার চোখের কোণ পুড়িয়ে দিয়ে নেমে আসছে বিছানায়। - দেখো, তুমি এমন করে ভেঙ্গে পড়লে চলবে? বাবুটাকে দেখবে কে বলো? আমাদের একটাই বাবু, ছোট্ট, এত্তটুকু। গলা ধরে আসে মিমির। আমি আর পারি না, ঝটকা দিয়ে মিমির হাত ছাড়িয়ে নেই। দরজা পর্যন্ত গিয়ে থমকে দাঁড়াই। না, বাবুকে এখানে আনা যাবে না। আমাদের বাবুটা এই দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে বেড়ে উঠুক, এটা চাইনা আমি। ছুটে এসে মিমির হাত ধরি। ও কিভাবে যেন বুঝে যায় - - বাবুকে এনো না কাছে। বাবু আমাকে এভাবে দেখুক আমি চাই না। গলার স্বর নিস্তেজ হয়ে আসছে মিমির। প্রতি মুহূর্তে ও একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর দিকে। - এই শোনো, তোমার সোনা বউটার না খুব ভয় করছে। তুমি তাকে একটা গল্প শোনাও না, প্লিজ ... ওই যে, বিয়ের রাতে আমাকে যে গল্পটা শুনিয়েছিলে, সেই পাতার গল্পটা ... কি চমৎকার একটা দিন ছিল সেদিন। ভালবাসাবাসির শুরুতেই আমরা বুঝে গেছিলাম, একে ছাড়া আমার চলবে না কিছুতেই। তাই বিয়ের জন্য ভাবতে হয়নি একেবারেই। আমার দুই বন্ধু আর ওর দুই বান্ধবী ছিল বিয়ের সাক্ষী। কোর্টের ঝামেলা মিটিয়ে আমরা চলে গেছিলাম চাইনিজ হোটেলে। নিজেকে খুব সুখী আর পূর্ণ মানুষ বলে মনে হচ্ছিল। এক নিমিষে ছেলেমানুষি গুলো হাওয়া হয়ে গেছিলো। বিয়ের পর যখন আমি ওর হাত ধরলাম সেদিন, আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, এই মানুষটাকে আমি কোন দিন কোন কষ্ট পেতে দেবো না। যতই দুঃখ আসুক, আমি নিজে ঢাল হয়ে সামনে দাঁড়াবো। সেদিন রাতে, আমাদের বাসর হয়েছিল নবীনদের ছোট্ট বাসাটায়। অনেক রাত পর্যন্ত ওরা যন্ত্রণা দিয়ে দিয়ে পাগল বানিয়ে ছেড়েছিল আমাদের। এরপর না না রকম দুষ্টু ইঙ্গিতপুর্ণ কথা বলে ঘর ছেড়েছিল সবাই। আমি দরজা বন্ধ করে বিছানার কাছে আসতেই মিমি বলেছিল - "একটু দাঁড়াও"। আমি বুঝিনি ও কি করতে চায়। মিমি বিছানা থেকে উঠে এসে মাথায় ঘোমটা টেনে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলো আমাকে। আমি তাড়াতাড়ি ওকে দুহাতে ধরে তুলে চুমু খেলাম ওর কপালে। এরপর অনেকক্ষণ ও মিশে রইলো আমার বুকের সাথে। এক সময় আমার বুকের ভেতর থেকেই বলে উঠলো - "চলো বারান্দায় গিয়ে বসি"। আমি সায় দিলাম, কিন্তু ও নড়লো না। বললাম - "চলো যাই"। "আমার যে এখান থেকে নড়তে ইচ্ছে করছে না, হাঁটতেও ইচ্ছে করছে না, কিন্তু বারান্দায় যেতে ইচ্ছে করছে"। আমি বললাম - "তাহলে আমার পায়ের উপর উঠে এসো"। ও একটু অবাক হয়ে আমার পায়ের উপর ওর পা রাখলো। আমি ওকে জড়িয়ে ধরেই আস্তে আস্তে হেঁটে বারান্দা পর্যন্ত এলাম। সেদিন বারান্দায়, আমার কোলে মাথা দিয়ে মিমি একই ভাবে বলেছিল একটা গল্প শোনাতে। - "এক দেশে ছিল এক দস্যি পাতা। দমকা হাওয়ায় উড়তে উড়তে সেই পাতাটা একদিন গিয়ে পড়লো বিশাল এক দিঘীর মাঝখানে। পানিতে পড়ে দস্যি পাতাটা আর উড়তে না পেরে ছটফট করতে লাগলো মুক্তি পাবার জন্য। অনেক চেষ্টার পর পাতাটা এক সময় দিঘীর পাড়ে এসে পৌছাতে পারলো। মুক্তির আনন্দে নেচে উঠতে যাবে পাতাটা, সেই সময় সে দেখতে পেল দিঘীর পাড়ে একাকী বসে একটি মেয়ে। মেয়েটার রূপ আগুন ঝরায় না, বরং তার স্নিগ্ধতা ছড়ীয়ে পড়ে পুকুরের পানিতে, পানি থেকে আকাশে। পাতাটা অবাক হয়ে দেখে, কি আশ্চর্য রকম নীরব হয়ে গেল প্রকৃতি তখন। থেমে গেল দমকা হাওয়া, দিঘীর কালো জল শান্ত হয়ে এলো। পাতাটা ভাসতে ভাসতে মেয়েটার খুব কাছে চলে এলো। মেয়েটা কেন যেন পাতাটাকে দেখে খুশী হয়ে উঠলো, বললো - "ও মা, কি সুন্দর একটা পাতা। এই পাতা, তুমি কোত্থেকে এলে এখানে?"। পাতা কিছুই বলতে পারলো না, শুধু অপলক চেয়ে রইলো মেয়েটির দিকে। আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো - এই দিঘি ছেড়ে সে কোথাও যাবে না, কোন দিনও না।" সেদিনের মতই আজও মিমির গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে মুক্তো কণা। আজও মিমি শক্ত করে ধরে আছে আমার হাতটা ওর হাতের মুঠোয়। সেদিন আমার চোখে অশ্রু ছিলনা ... আজ আমার চোখেও অশ্রু। মিমি হারিয়ে যাচ্ছে আমার জীবন থেকে। আমি কোন ভাবেই ধরে রাখতে পারছি না ওকে আমার জীবনে। অনেকক্ষণ চেষ্টা করে ডাক্তার আশা ছেড়ে দিয়েছেন, বলে দিয়েছেন মিমি আর কয়েক ঘণ্টা মাত্র থাকবে আমাদের সাথে। প্রার্থনা ছাড়া আর কিছুই করবার নেই এখন। আমি মিমির হাতটা জড়িয়ে ধরে বিছানার পাশে বসে আছি ... চারিদিক কেমন শূন্য লাগছে আমার ... আমার সোনা বউটা একটু একটু করে দূরে চলে যাচ্ছে আমাদের সবার কাছ থেকে ... দূরে চলে যাচ্ছে ... দূরে চলে যাচ্ছে ----------------------
<<< শুধুই স্বপ্ন...আর ভালবাসা >>> অভ্রের সাথে আমার যখন বিয়েটা হয়, বুঝতেই পারিনি কি হতে যাচ্ছে। খুব হঠাৎ করে আর খুবই সাধারণভাবে আমাদের বিয়েটা হয়ে গেল। সাধারণ বলতে আসলে অনুষ্ঠানটার কথা বলতে চাচ্ছিনা, অনুষ্ঠান একটা হয়েছে মাশাল্লাহ, কিছুরই অভাব ছিল না। বলছিলাম পুরো প্রক্রিয়াটার কথা । কোথায় কেউ এসে আমাকে একটু খোঁচা দেবে..." আপু, বরটা তো সে রকম পেয়েছেন"।অথবা বিয়ের পর কি কি হবে সেসব নিয়ে দু'একটা কথা বলতে ছাড়বে না, এমন কিছুই হয়নি। বিয়ের আগে থেকে শেষ পর্যন্ত এমন একটা ভাব ছিল সবার, সব গরজ মিথিলার, ওর বর কেমন হবে তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা করে ফাটিয়ে ফেলার কি দরকারটা শুনি! খুবই হতাশার সাথে বিয়ের দিন লক্ষ করলাম, পাশে বসা ছেলেটাকে আমি বিন্দুমাত্র চিনি না। নামটাই জানি শুধু, একবার যে ডিজিটাল যুগে ফোন করে একটু কথাটথা বলে নিব সেই কাজটাও করিনি। আমার বান্ধবীরা সব প্রেম করে বিয়ে করছে, বিয়ের দিন জামাইয়ের সাথে ঢলে ঢলে ছবি তুলছে,তাদের সে কি হাসি! মাঝে মাঝে আমরা শালীরাও ঢলে ঢলে ছবি তুলেছি...... আর আমার ক্ষেত্রে! একবার অভ্র আমাকে দেখতে আসল , আর একবার অভ্রের হাতে আংটি পরিয়ে ওকে নিজের সম্পত্তি বানিয়ে ফেললাম। সম্পত্তি হল ঠিক, এমনই সম্পত্তি যার সম্পর্কে কিছুই জানা হল না। আমি খুবই লুতুপুতু টাইপের মেয়ে , ভালবাসতে বাসতে লাল করে ফেলি এমন । সারাদিন কাঁদিয়ে আধমরা করে ফেলা টাইপ বইপত্র পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে যাই, আমার মন ক্লান্ত হয়না। বন্ধুদের তাড়া দি, " এই ওই রোমান্টিক ছবিটা আমাকে কখন দিবি বলতো?" আমার চারপাশের মানুষ আমার জ্বালায় এককথায় অতিষ্ঠ । আমার খুব প্রিয় বান্ধবী আমাকে বলে, এত বইপত্রের হিমালয় না জমিয়ে তোরই মত , বা আরও এক কাঠি বাড়া লুতুপুতু টাইপ একটা ছেলেকে বিয়ে করে ফেল, আমরাও বাঁচি তোর ঘ্যানঘ্যানানি থেকে , আর তোরও একটা গতি হোক। নাহলে যেই হারে বই কিনছিস আঙ্কেলকে কিছুদিন পর ব্যাংকরাপ্ট এর মামলা খেতে হবে। আমার কি দোষ? প্রেম করতে পারব না জানি, প্রেম করার সাহস বা ধৈর্য কোনটাই আমার নেই। তাই এই প্রেমের স্বর্গরাজ্যে হানা দেয়া। আমি গর্তের মানুষ। গর্ত থেকে আমাকে নিশ্চয়ই কেউ একদিন না একদিন টেনে বের করবে। আমি তো শুধু স্বপ্ন দেখে যাব, এক রাজপুত্র আসবে, আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে, সাদা শুভ্র আমি হারিয়ে যেতে চাই সেই স্বপ্নের মাঝে। হায় পোড়া কপাল, এসব কি হচ্ছে আজকে ! চিনিনা , জানিনা, এই ছেলেকে আমি বিয়ে করে ফেললাম। একটা দিন প্রেম করার সুযোগটা পর্যন্ত দিলাম না নিজেকে। সত্যি বলতে, বিয়ের দিন আমি যতটা না কাঁদলাম বাবা মায়ের জন্য, তার থেকে বেশি কাঁদলাম নিজেকে নিয়ে । গাধী একটা । বলল , আর বিয়ে করে ফেলতে হবে !! রাগ লাগছে এখন, সব ভেঙ্গেচুড়ে ফেলতে ইচ্ছে হচ্ছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই ছেলেটার মাথায়ই । আহারে, আমার এই বর , এখনো জানেই না, তার সদ্য বিবাহিত বউ তাকে নিয়ে কি সব বিধ্বংসী চিন্তাভাবনাই না করছে । আমি তাকাচ্ছি বারবার ওর দিকে , কিন্তু এই হাঁদারাম একবারও আমার চাঁদবদন মুখটার দিকে তাকানোর কসরত পর্যন্ত করছে না । ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছ ভাল কথা বাবা, যন্ত্রপাতি ছাড়া আর কি কিছু চোখে পড়ে না !! হাঁদারাম ! যা ভাবলাম তাই, আমি পুরা একটা হাঁদারামকে বিয়ে করেছি । বিয়ের প্রথম রাতটাই তার প্রমাণ । কেউ বিশ্বাস করবে না, কিন্তু এই ছেলের সাথে ..." আপনি ভাল আছেন মিথিলা?...জি আমি ভাল আছি..." এই দুই বাক্য ছাড়া আর কোন কথাই হয় নি । মিথিলা, তুমি মরেছ । তোমার আজীবনের সাধ , তুমি এখন পাটায় পিষে খেয়ে ফেলতে পার । জানিনা, আমার আশাভঙ্গের আর জীবন পাল্টে দেয়া সেই রাতটায় আমি কেমন করে ঘুমালাম । দু' চোখের পাতাতো এক হওয়াই উচিৎ না, অথচ আমি ঘুমালাম । এমন ভাব, জীবনেও ঘুমাইনি, আর কখনো সুযোগও হবে না , যা ঘুমিয়ে নেয়ার আজকেই ঘুমিয়ে নাও । সকালে ঘুম ভাঙতে যে আরও বিপদে পরবো , বুঝিনি । মাথাটা এখনো অভ্যস্ত হয় নি, আমি এখন আর আমার বাসায় নেই, আমকে এখন আর মা আদর করে ডেকে দিবে না । আমাকে এখন নিজে নিজেই উঠতে হবে, পারলে বাড়িসুদ্ধ মানুষকে ঘণ্টি বাজিয়ে ডেকে তুলতে হবে, আরও কতকি!! সকালের রোদটা আমার একেবারে চোখে এসে পড়লো । আর ঘুমাতে পারলাম না , চোখ খুলতেই হল। মিটিমিটি চোখে তাকাচ্ছি চারপাশে , অচেনা অজানা একটা রুম। মানুষটা কোথায় গেল ? ইসস...আমি মনে হয় বেশি দেরি করে ফেলেছি । কাউকে খুঁজে পেলাম না ঘরটায় । আজব ছেলে, একটাবার যে আমাকে ডেকে দিয়ে যাবে, সেটাও করল না । ধ্যাত। হাঁদারাম পুরা । আমি টেবিল ঘড়িটার দিকে হাত বাড়ালাম । এই রুমে কোন বড় ঘড়ি নেই। ঘড়ি ধরতে গেলাম ঠিক , কিন্তু হাতে ঠেকল অন্য কিছু, গরম কিছু। একটা কফির মগ । আর একটা ছোট্ট চিরকুট । "মিথিলা, ঘুমাচ্ছিলেন। তাই আর জাগালাম না । চিন্তা করবেন না , আমার বাসার মানুষজন একটু বেশি বেলা করে ঘুমায় । কফি তৈরি করে রেখে গেলাম । শুনেছি আপনার পছন্দের। খেয়ে নেবেন ।" আমি আর কি বলব । পুরা চুপ হয়ে গেছি । কখনো ভাবিনি , আমার জন্য এই মানুষটা কফি বানিয়ে রেখে যাবে ! কখনো মাকেই সকালে একটা কাপ কফি দেয়াতে রাজি করাতে পারিনি। আরে, এসব কি না কি ভাবছি ! কফিই তো বানিয়েছে, কফির ফ্যাক্টরি বানিয়ে ফেলেনি আমার জন্য । একটা কাপ কফির জন্য এই হাঁদারামের প্রতি আমার ভালবাসার ঢেউ উছলে পড়া কি ঠিক? মোটেও না । মিথিলাকে আল্লাহ শুধু মনটাই দিয়েছে , মাঝে মাঝে মনে হয় । বুদ্ধিটা আল্লাহ প্যাকেট করে অন্য কোথাও রেখে দিয়েছে, আমি যেন কোনদিন ওটার নাগাল না পাই। সেই দিনটা যে খুব খারাপ কাটল , তা না । হাঁদারামের বাড়ির লোকজন আমাকে ভীষণ পছন্দ করে, প্রমাণ পেলাম । করবেই তো, রূপসী মেয়েদের সব জায়গায়ই দাম আছে, আমি কি দেখতে খারাপ নাকি খুব ! নানা কাজে দিনটা পার হয়ে গেল । দাওয়াত খেতে গেলাম , বাসায় ব্রিগেড ভর্তি মানুষজন আসল, সবাইকে আমার পাউডারে সাদা বানানো চেহারাটা একনজর করে দেখাতে হল। আর কি প্রশংসা! প্রশংসার বানে মাঝে মাঝে মনে হল , পালিয়ে সুন্দরবন চলে গেলে এর থেকে খুশি হতাম মনে হয়। আমার বরটা কিন্তু সারাক্ষণ আমার আশেপাশেই ছিল । কিন্তু আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম তার আড়ালে আড়ালে থাকার শক্তি দেখে। অবাক হলাম, আমি আসলেও বুঝতে পারছিনা এই ছেলের অস্তিত্ব। সব আত্মীয়দের সাথে ও মিশছে , আমার প্রায় পাশেপাশেই থাকছে । একটুও শিহরণ জাগছে না মনে। আমি কি ঠাণ্ডা হয়ে গেলাম! মোটেও না। এ আমার রাজপুত্র হতেই পারেনা । আমি ওকে অনুভব করতে পারিনা । সিনেমাতে টম ক্রুয , শাহরুখ খান সবাইকেই মনে হয় আমার রাজপুত্র । আর আমার সত্যিকারের বর , যার সাথে আমার ১০ লক্ষ ১ টাকা দেনমোহরে কাগজে সই করে বিয়ে পর্যন্ত হয়ে গেল , আমার ভিতর তার কোন মূল্য থাকছে না। তবুও তো, জীবন চলে , থেমে থাকে না । আমরাও চলি । কষ্ট হলেও চলি । চলতে চলতে হোঁচট খাই, ফের উঠে দাঁড়াই । বিধাতার হাতের মোমের পুতুল আমরা, সুতা যেদিকে টান পরবে , সে দিকেই চলতে হবে । আমার সুতা আমাকে এই বাসায় এনে ফেলেছে , আমাকে এখান থেকেই এগুতে হবে , পিছনে সামনে ডানে বাঁয়ে কোন দিকে ঘুরার আর সুযোগ নাই । #### সপ্তাহ ঘুরে । সাতদিনের কোটা পার করে আমরা এখন অষ্টম দিনের স্বামী স্ত্রী । একটা মানুষকে জানতে নাকি মাত্র কয়েকটা মুহূর্তই প্রয়োজন হয়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হয় না। আমি বেশি স্বপ্ন দেখেছিলাম তো, তাই ২৪ পূরণ ৭ ঘণ্টা পরেও আমি আমার পাশের মানুষটাকে চিনতে পারিনি । এত সুন্দর , ভদ্র আর কিউট একটা ছেলে , আমি সবসময় চেয়েছিলাম , ঠিক তেমন একটা ছেলেই আমার চারপাশে ঘুরাফেরা করে , আশ্চর্য , আমি তাকে চিনতে পারি না । কেন আমি পড়তে পারিনা একে , কেন আমার অপেক্ষাগুলো শেষ হয় না!! আমার খুব প্রিয় আকাশ দেখা । বেশি ভাবুক তো, উদাসীনের সব লক্ষণ একেবারে কায়দা করে রপ্ত করেছি । আমাদের বিশাল রুমটার সাথেই একটা ছোট খোলা বারান্দা আছে, দখিনে মুখ তার । আমার ভীষণ প্রিয় জায়গাটা । সারাটা দিন এখানে সেখানে মানুষের পদধূলি নিতে নিতে জান যায় , তাই দিনে এখানে আসা হয় না । কিন্তু রাতটা শুধুই আমার । অভ্র ঘুমিয়ে পড়ে । তারপর এসে বসি এখানটায় । আকাশের সাথে কথা বলি । তারাগুলো আমার বন্ধু । বিচার চাই তাদের কাছে । আমার স্বপ্নগুলোতো ওরাই তৈরি করে দিল । মুক্ত আকাশের নিচে ভালবাসাবাসি করার স্বপ্নটা কি আমার পূরণ হবে না! এলো বাতাসকে বলি , আমাকে গল্প শুনিয়ে যাও , আমার জীবনটা এমন হল কেন? আফসোস , আজ সবাই নিশ্চুপ । কারো কাছে কোন শব্দ নেই ...... অভ্রের সাথে যখন গাড়িতে বসে থাকি , খুব ইচ্ছা করে ওর হাতটা একটু ধরি । গিয়ারে ধরা ওর হাতটা একটু কেঁপে যাক । সামনের কাঁচটা একটু ঝাপসা হয়ে যাক । একটু গাড়িটা নেচে উঠুক । আমিও নেচে উঠি সেই সাথে , আনন্দে । কিছুই হয়না । ও সামনেই তাকিয়ে থাকে , রাস্তায় খুব মনোযোগ । আমিও গাড়িগুণার চেষ্টা করি , এক দুই তিন ............ দখিনের বারান্দাটায় একটা ছোট্ট গোলাপ গাছ আছে । কেউ দেখে না । অযত্নে অবহেলায় সে দিন গুজরান করে । বেচারা একটু পানিটুকুও পায় না । তাতে কি , প্রকৃতি তার সন্তানদের নিজ দায়িত্বে রাখে । অযত্নে বেড়ে উঠা সেই গাছটিতে একটা লাল টকটকে ফুল ফুটেছে দুইদিন হল । আমিও হেলায় এড়িয়ে যাই ওটাকে । থাকুক না । মাঝে মাঝে মনে হয় , অভ্র কি কখনো বুঝবে , ওই লাল ফুলটা ওর হাতে পাওয়ার আমার কত শখ ? কখনো কি বুঝবে , ওই লাল ছোট্ট সৃষ্টিটাও খুশি হবে , তুমি আমার হাতে দিলে! ##### আজ কি হচ্ছে না হচ্ছে , কোনদিকে খেয়াল নেই । আপন মনেই বাসার এমাথা থেকে ওমাথা ঘুরে বেড়াচ্ছি । এটা সেটা নাড়াচাড়া করছি, বাবা মায়ের সাথে কথা বলছি, নানা রকম কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখার একটা ক্ষুদ্র এবং ব্যর্থ চেষ্টা । ছাইপাশ যা ইচ্ছা তাই করে আমি মনোযোগ অন্য দিকে ঘুরাচ্ছি । আমি অভ্রের প্রেমে পড়ছি...... একটু একটু করে......... শামুকের চেয়েও ধীর গতিতে ......... রুমে চলে আসলাম ।কাবার্ড গুছাবো । বিয়ের পর এইদিকে একদম মনোযোগ দেয়া হয়নি । যাচ্ছেতাই অবস্থা এখন । এলোমেলো সব জিনিসপত্র , আমারই মত । একটা একটা করে গুছাচ্ছি । হঠাতই ,একটা কাল ডাইরি পেলাম ।অবশ্যই অভ্রের । এটা অভ্রের রুম । হাত নিশপিশ করছে ওটা খুলতে । কিন্তু এটা অভ্রের । আমার বর হলেও ও এখনো অন্য মানুষ । ওর সব জায়গায় প্রবেশাধিকার আমি পাইনি । বলতে বলতেই খুলে ফেললাম । আমার নিশ্বাস আটকে আসছে , আমি জানিনা ওতে কি লেখা আছে , এমন কিছু কি , যা আমি কখনো শুনতে চাইনা ? " মিথিলা , আজকে তোমাকে প্রথম দেখলাম । প্রথম । কিন্তু আমার মনে হল , তোমাকে আমি যে আরও কতবার দেখেছি । ছবিতে দেখে বুঝতে পারিনি , জলজ্যান্ত দেখে বুঝলাম আজ । মানুষ সুন্দরের পূজারী , আমিই বা আলাদা হব কেন? তোমাকে গুটি গুটি পায়ে মাথায় ঘোমটা দিয়ে যখন আসতে দেখলাম , আমার জগত থমকে গিয়েছিল । বিশ্বাস করো মিথিলা , কখনো কাউকে দেখে এমনটা মনে হয় নি আমার । তোমাকে ওই এক নজর দেখায় আমি জানতাম , তোমাকেই দরকার আমার । আজব ব্যাপার জান , আমি জানি , তুমি যখন আসবে , আমি কখনোই তোমাকে বলতে পারব না , তোমাকে ভালবাসি । আমি এমনই মিথিলা । লিখে তো যাচ্ছি মিথিলা , মুখের কথা আর ফুটবে না, বুকের কথা বুকেই রয়ে যাবে । মাকে জানিয়ে দিয়েছি , তোমাকে পাশে পেতে চাই , তোমরাও নাকি জানিয়েছ । কিন্তু , আমাকে একটু সহজ করে নিও । আমি যে পারিনা কিছু । এই লেখাটা তোমাকে পড়তে দিব । নাহ...... সেটাও পারব না ।" পাতার পর পাতা লিখে যাওয়া। অজস্র শব্দ, অসংখ্য আবেগ , অফুরন্ত কথা । পড়তে পারছিনা আমি , আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। একটা সিদ্ধান্ত নিলাম । সব গল্পে নাহয় রাজপুত্র আসে, আজকে রাজকন্যা আসবে , রাজপুত্রকে নিয়ে যেতে । আমি সেই রাজকন্যা হব । ##### সন্ধ্যা হয় হয় এমন একটা সময় । নির্মল । একটা খুব ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে , আস্তে আস্তে । আমাদের রুমের পর্দাগুলো সেই হাওয়ায় উড়ে বেড়াচ্ছে । ১০১ টা মোম জ্বালিয়েছি । ভয়ে আছি, যেই অকর্মার ঢেঁকি আমি , কখন না আগুন ধরিয়ে দি । তখন বাড়িসুদ্ধ মানুষসহ ফায়ার সার্ভিসের মানুষের সাথে প্রেম করতে হবে । তবুও... জ্বালালাম । আজকে আমার রাত । আজ কিছুই হবে না । তারারা আমাকে বলে গেছে । বাতাস গান গেয়ে শোনাচ্ছে । এবং সবকিছু চপেট করে দিয়ে বেকুব ছেলেটা হঠাৎ করেই এসে পড়লো । ওর এখন আসার কথা ছিল না । আজকেই সব কিছু বরবাদ করার জন্য হাঁদারামকে তাড়াতাড়ি আসতে হবে! আমি রুমের বাইরে ছিলাম । অভ্র রুমে দাঁড়িয়ে আছে । আমাকে দেখতে পাচ্ছে না । বেডসাইড টেবিলটায় আমি ওই গোলাপটা আর একটা কাগজের টুকরো রেখে দিয়েছি। ওকে দিতাম । ও নিজেই থেকেই দেখে ফেলেছে । চিরকুট পড়ছে অভ্র... "তোমাকে সবসময় আমি কি বলে ভেবে এসেছি জানো? হাঁদারাম । এবং আমার ধারণা ১০০ শতাংশ সত্যি । ভালবাস , একটাবার বলা যায় না? ভালবাসার আমি যে কাঙাল , কেন বুঝ না ? এমনকি হাঁদা ছেলে , এটাও বুঝতে পারনি , আমি তোমার প্রেমে পড়ে গেছি। " আমার শব্দ পেয়ে গেল অভ্র। পিছন দিকে খুব হুড়োহুড়ি করে ঘুরতে গেল , যেন খুব লজ্জা পেয়ে গেছে । একটু কি আমি দেখলাম , চোখটা একটু মোছার চেষ্টা করল ? কি জানি , আমার দেখার ভুল হবে হয়ত... এক সমুদ্রভরা ভালবাসা নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে ও । বিধাতা আমার স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে দেয় নি , হাঁদারাম তো আসলে ছিলাম আমি , এমন ভালবাসার সমুদ্র ফেলে আমি ছোট জলাধারে ছুটে গেছি , ভালবাসার হাহাকার করতে করতে । আমাকে উপযুক্ত শাস্তিই দেয়া হয়েছে । ভাল হয়েছে, খুব ভাল । #### আজকে ভোর দেখলাম দুজন ।পুবের আকাশটাকে রাঙ্গা করে সূয্যি মামা নতুন একটা দিনের ডাক দিচ্ছে । একটা নতুন সময়ের প্রতীক্ষায় সবাই জেগে উঠবে কিছুক্ষণ পরেই । আর আমার শুরু হবে একটা নতুন জীবন । ভালবাসাময় একটা জীবন। সকালটায়ও জেগে আছি । অভ্র ঘুমাচ্ছে আমার পাশে । সকালের মিষ্টি হলুদ রোদটা ওর উপর এসে পড়েছে । ভুরু কুঁচকাচ্ছে আমার রাজপুত্রটা । আমি দেখছি । সীমাহীন মায়ায় বুকটা ভরে যাচ্ছে আমার । ইসস.........এত মায়া যে কোথা থেকে আসে!
<<< মনি-এর না বলা ভালবাসা >>> একটা মেয়ে এত চঞ্চল থাকে কি করে? সবাই ভাবে এত হাসে কিভাবে মনি?? কেউ যদি তাকে বকাও দেয় তারপরও তার হাসি আর থামে না। তার নাম মনিমা রায়। সকালে পূজা শেষ করে কলেজে যেতে হয়। তার একটাই বেষ্ট ফ্রেন্ড নামঃ সামিরা নুর। খুবই খুবই ভাল ফ্রেন্ড। স্কুল লাইফেও তারা একসাথে ছিল। কলেজেও একসাথে। কলেজের প্রথম দিন মনি দৌড়ে সিঁড়ি বেঁয়ে উঠছিল। হঠাৎ ধাক্কা খেলো!!! পিছনে না দেখতেই বলল যে সরি!!! যখন দেখলো বুঝলো যে একটা ছেলের সাথে ধাক্কা খেয়েছে… কথায় আছে যে At The First Sight Of Love. প্রথম দেখায় প্রেমে পরে গেলো। আর কোন কথা হল না। ক্লাসে এসে সামিরাকে বলতে লাগলো “জানিস সামু, আজ একটা সুন্দর ছেলে দেখলাম, অনেক ভাল লাগলো।“ সামিরা হেসে বলে যে কাকে দেখলি আবার? নাম কি?” মনি বলল জানি না তো। গণিত ক্লাস করতে গিয়ে দেখে সেই ছেলেটি যার সাথে মনি ধাক্কা খেয়ে প্রেমে পরেছে। জানতে পারলো ছেলেটির নাম আবিদ। প্রতিদিনই দেখা হতো কিন্তু কথা তেমন বলা হতো না। মনির মনের মধ্যে একটু একটু করে গড়ে উঠছে ভালোবাসা। কেউ জানলো না এমন কি সামিরাও না। সবার কাছ থেকে লুকিয়ে ভালবাসছিল সে। আবিদকে দেখলেই মনের মধ্যখানটায় ধুক ধুক করে উঠতো, স্তব্দ হয়ে যেতো মনি। একদিন স্যার এর বাসায় দেখা হল আবিদের সাথে। স্যার বলল ওনাকি অনেক Brilliant!!! তার কাছথেকে হেল্প নিবে ভাবলো মনি। তাই সাথে সাথে বলে উঠলো এটা বুঝাতে একটু হেল্প করবে? আবিদ বলল “OK” মনি দেখলো ছেলেটা একটু বোকা। তাকালোও না। শুধু পড়াটাই বুঝাতে লাগলো । মনি তো আজ অনেক খুসি!!! এভাবেই দিন কাটতে লাগলো। আর মনির মনে অজান্তেই আবিদের জন্য ভালোবাসার সৃষ্টি হল যে ও ভুলেই গেল যে অদের ধর্ম আলাদা। এভাবেই দিন যায়। কিছু বলা হয়ে উঠলো না মনির।কিন্তু একদিন আবিদের এক বন্ধু বলল যে আবিদ নাকি মনির বেষ্ট ফ্রেন্ড সামুকে (সামিরাকে) ভালবাসে। কিছুদিনের মধ্যে প্রপোজ করবে!!! শুনে যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। বাসায় এসে কি কান্না। কান্না যে আর থামে না। কাউকে বলতেও পারছে না তার কষ্টের কথা। তার আজ মনে হচ্ছে কেউ তাকে ভালবাসে না। মা-বাবা, বন্ধু-বান্ধব এমন কি সৃষ্টি কর্তাও না। আজ বড় অসহায় সে। সে ভাবল কেউ তাকে একদিন ভালবাসবে। তার ভালবাসার টানে মনিও তাকে ভালবাসবে। কিন্তু আজ একি শুনলো সে??? এদিকে আবিদ সামিরা কে প্রপোজ করেছে। সামিরাও হ্যাঁ বলেছে। তাই এখন তাদের এফেয়ার চলছে। মনি বুঝতে পারলো তারই তো ভুল। কি হবে এসব ভেবে? তারপরও সে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছে না। কোথায়ও মন বসে না। কলেজেও যায় না। পড়ালেখা বন্ধ প্রায় অনেক দিন। সামনে H.S.C পরীক্ষা। তার মা’র তো অনেক টেনশন যে মেয়ের কি হল??? H.S.C পরীক্ষা শেষ। এদিকে মনির বাবা চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ট্র্যান্সফার হয়ে চলে গেল। ওদেরকেও নিয়ে গেল। সবকিছু চট্টগ্রাম এ রেখে মনি শুধু ২ বছর এর কিছু সৃতি নিয়ে গেল কুমিল্লায়। কয়েক মাস পরে…………… মনি এখন অনেক অনেক চেঞ্জ। কারো সাথে আর হাসে না। কথাও কম বলে। একা একা থাকলে দুচোখ বেঁয়ে পরতে থাকে অশ্রু-র ফোয়ারা। সে কি করবে এখন!!!! সে যে অনেক একা এখন। মাথায় শুধু আবিদ আর আবিদ। আর কিছুই বুঝে না। সামিরা মনিকে কল দিয়ে বলে ওদের প্রেম এর কথা। মনি চুপ করে থাকে। আর হেসে বলে ভাল থাক তোরা। মনির একটাই চাওয়া যেন আবিদ ভাল থাকে!!! আবিদ চট্টগ্রাম মেডিকেল এ Admission নিলো। আর সামিরা চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটিতে। আর মনি কুমিল্লা ইউনিভার্সিটিতে। একদিন শুনলো সামিরার সাথে মনির ব্রেক আপ হয়েছে। কষ্ট লাগলো অঙ্কে। ভাবতে লাগলো জীবনটা কত রহস্যময়। একদিন একটি অচেনা নাম্বার থেকে কল আসে মনির মোবাইল-এ। রিসিব করল সে। অপর প্রান্ত হতে আবিদ রাগান্বিত হয়ে বলছে “তুমি নাকি আমায় ভালোবাসো?” মনি তো থ হয়ে গেল!! মনিঃ কে বলল তোমাকে? আবিদঃ আমি শুনলাম। দেখো এসব আজেবাজে চিন্তা মাথায় আনবেনা বলে দিচ্ছি। কোথায় তুমি আর কোথায় আমি। এই কথা বলেই লাইন কেটে দিলো আবিদ। মনি ভাবল কে না কে কি বলল তাই নিয়ে আমার সাথে এমন খারাপ ব্যবহার ??? এতটাই অসয্য আমি ওর কাছে??? আমি তো কাউকে কিছু বলিনি। পরে জানতে পারলো আবিদের এক বন্ধু কাজটা করেছে। তার নাকি মনে হয় ও আবিদকে অনেক ভালবাসে তাই বলেছে। সব কিছু থেকে মনি এখন অনেক দূরে। বেষ্ট ফ্রেন্ড থাকে দূরে আর তার ভালবাসা আবিদ যাকে সে এত ভালবাসে সেই তাকে সয্য করতে পারে না……… মনি এখন ও একা। কিন্তু তার মনে এখনও এই বিশ্বাস আছে যে একদিন আবিদ তাকে বলবে তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি। এই আশায় মনি প্রহর গুনছে। সকল পাঠকের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনারা মনি-এর জন্য দুয়া করবেন।
<<< ভালবাসার প্রথম চিঠি! >>> কেনো জানি খুব কান্না পাচ্ছে! শূন্যতা, পূর্ণতা, নির্ভরতা নাকি নিঃসঙ্গতার জন্য, জানি না। শুধু বুঝতে পারছি বুকের ভিতরে কোথায় জেনো লুকানো জায়গা থেকে একদল অভিমান প্রচণ্ড কান্না হয়ে দু’চোখ ফেটে বেরুতে চাইছে। তুমি কাছে নেই বলে শূন্যতা তার ইচ্ছে মত দেখাচ্ছে তার নিষ্ঠুর খেলা। আমিতো তোমার বুকে মুখ লুকালেই বাঁচি এখন! কিন্তু তুমি যে কত দূরে! বলতো! আজ শেষ বিকেলের পাহাড় ছুঁয়ে ছুটে আসা দমকা হাওয়ার জড়িয়ে দেয়া মেঘের মতো ছোট্ট একটি ঘটনা আমার সব দ্বিধাকে উড়িয়ে নিয়ে গেলো! বুঝলাম, মহাকাল যে হাস্যকর ক্ষুদ্র সময়কে “জীবন” বলে আমাকে দান করেছে। সেই জীবনে তুমি-ই আমার একমাত্র মানুষটি, যার পাঁচটি আঙ্গুলের শরণার্থী আমার পাঁচটি আঙ্গুল, যার বুকের পাঁজরে লেগে থাকা ঘামের গন্ধ আমার ঘ্রাণশক্তির একমাত্র গন্তব্য। যার এলোমেলো চুলে আমি-ই হারিয়ে যাবো। আর আমি হারিয়ে যাবো ভালবাসতে বাসতে!!! যার দুটো অদ্ভুত সুন্দর মধুভরা ঠোঁটের উষ্ণতায় আর তাই জীবনটা আজ ঠিক সেই অদ্ভুত ফুলগুলোর মতই মতই সুন্দর, যা দেখে আমি চমকে উঠেছিলাম। আর তুমি আমায় পরম মততায় আলতো জড়িয়ে ধরে তোমার ঠোঁটের সেই খুব মিষ্টি ছোঁয়ায় ভরে দিয়েছিলে সেই পুরোটা পাহাড়ি বিকেল। আর তখন সেই দূর পাহাড়ের দুষ্ট বাতাস এসে আমাকে চুপি চুপি কানে কানে বলে দিলো, “তোমার পাঁজরের হারেই আমার এই দেহটি তৈরি, যাকে স্বামী বলে!”। আজ প্রতিটি ক্ষণ হৃদয়ে যে পরম সত্য অনুভব করলাম- আমি শুধুই তোমার। সে শেষ ঠিকানা আমি পেলাম। কখনই তা মিথ্যা হতে দিওনা, কখনই ছেড়না আর। আজ আমার ভীষণ সুখী হাত দু’টো, আর দৃষ্টি ঘুরিও না ঐ অদ্ভুত সুন্দর চোখজোড়ার, সেখানে অপলক তাকিয়ে বৃষ্টির সাথে আমিও আনন্দ হয়ে ঝরেছিলাম! তোমাকে ভালবাসি প্রচণ্ড- এরচেয়ে কোনও সত্য আপাতত আর জানিনা!! ভালবাসি তোমায়!
<<< ভালো আছি, ভালো থেকো >>> "পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। ইনি হলেন রুদ্র শেখর, আমার অফিসের বস। আর স্যার, ও হলো মহুয়া, আমার স্ত্রী।" আমি মিষ্টি করে হাসলাম মহুয়ার দিকে তাকিয়ে। কিন্তু মহুয়ার চোয়াল বিস্ময়ে ঝুলে পড়েছে। "রুদ্র তুমি? এত্ত দিন পর?.... তুমি আবীরের বস? অথচ অথচ...." অথচ আমি তার প্রাক্তন প্রেমিক, এ কথাটা মহুয়ার মুখ দিয়ে বেরোল না। আবীর সাহেবও বেশ অবাক হয়েছেন বলে মনে হলো। "মহুয়া, তোমরা আগে থেকে পরিচিত?" মহুয়া কিছু বলার আগেই, আমি দ্রুত বললাম-"হ্যা আবীর সাহেব, মহুয়া আমার ইউনিভার্সিটি লাইফের ফ্রেন্ড।" আবীর সাহেব মুক্তাঝড়া হাসি দিলেন-"রিয়েলি? দ্যাট'স আ গ্রেট সারপ্রাইজ!" মহুয়া এখনো ভীষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। ওর চিন্তা আমি স্পষ্ট ধরতে পারছি। আমি একসময় বইয়ের মতো পড়তে পারতাম এই মেয়েটাকে। মহুয়া নিশ্চয়ই ভাবছে, চার বছর আগে যে ছেলেটার সাথে দীর্ঘদিনের ভালবাসার সম্পর্ক কোন কারণ ছাড়াই এক লহমায় চুকিয়ে দিয়েছে, কাউকে না জানিয়েই বাবার পছন্দে আমেরিকা ফেরত ছেলের সাথে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছে, সেই ছেলে এত দ্রুত শক কাটিয়ে এত ভাল একটা পজিশনে স্টাবলিশড হলো কি করে? "কি ভাবছ মহুয়া?" আবীর সাহেব তার এক কলিগের সাথে গল্প করছেন, এদিকে খেয়াল নেই। এই ফাঁকে প্রশ্নটা করলাম মহুয়াকে। "কিছু ভাবছি না, তুমি ভালো আছো?" "কিছু তো একটা ভাবছই!" "আমি...আমি আসলে অবাক হচ্ছি তোমাকে দেখে। আমি ভাবতাম খুবই দুর্বল মনের ছেলে তুমি। আমি তোমাকে না জানিয়ে অন্য একটা ছেলেকে বিয়ে করেছি, এই ধাক্কাটা এত দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে ধারণা ছিল না আমার। সবসময়ে এক ধরনের অপরাধবোধে ভুগতাম তোমার কথা ভেবে। অথচ তুমি দিব্যি সুখেই আছো!" আমি মৃদু হেসে বললাম, "দেখলে তো তোমার ধারণা ভুল। আসলে তোমার যেদিন বিয়ে হলো, সেদিনই আমি স্কলারশিপ নিয়ে ডেনমার্কে পাড়ি জমাই। দু'বছর পর পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরি। তারপর ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের কাজটা জুটিয়ে ফেলি তোমার হ্যাজব্যান্ডের অফিসে। অবশ্য আবীর যে তোমার বর সেটা আগে জানতাম না!" মহুয়া স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল- "যাক, তুমি বাঁচালে আমায়। আমি তো সবসময় তোমার কথা ভেবে ভেবে দুঃশ্চিন্তায় ভুগতাম।" আমি আস্বস্তের হাসি হাসলাম। দু'ঘন্টা পর। অফিস পার্টি শেষ। আবীর আর মহুয়া হাত ধরাধরি করে গাড়িতে গিয়ে উঠল। মহুয়াকে উঠিয়ে দিয়ে আবীর হেটে এল আমার দিকে। আড়ালে ডেকে নিয়ে বলল- "ধন্যবাদ রুদ্র। সত্যি, আপনার অভিনয়ের প্রশংসা করতে হয়। এই অভিনয়টুকু না করলে মহুয়া কখনো সুখী হতো না।" আমি আমার সেই আস্বস্তিকরণ হাসিটা দিলাম আবার। আবীর-মহুয়াদের গাডিটা চলে গেল দূরে, অনেক দূরে......ওরা চলে যেতেই আমার বুকটা হাহাকার করে উঠল, চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা হলো- "আমি মিথ্যে বলেছি মহুয়া। আমি অফিসের বস নই! আমি টিউশনী করে চলা, পুরনো ঘিঞ্জি মেসে থাকা অকর্মা-বেকার যুবক। যেদিন তোমার বিয়ে হলো, সেদিন আমি ডেনমার্ক যাইনি। আমি সারারাত ছাদে বসে থেকেছি... তোমার কথা ভেবেছি । তোমার ধারণা ঠিক, আমি মানসিক ভাবে আসলেই দুর্বল। আমি ভালো নেই মহুয়া, আমি ভালো নেই!"

paglu

<<< পাগলু >>> ১. চোখে মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি নিয়ে টিভির দিকে তাকিয়ে আছে ত্রিনা । কলকাতার সুপারহিট হিরো দেবের একটা মুভি চলছে স্টার জলসা মুভিজে । ত্রিনা টেলিভিশন খুবই কম দেখে , তবে কিছুদিন হল বাসায় এসে ত্রিনা লক্ষ্য করেছে সেও তার বাসার মানুষজনের সাথে কিভাবে কিভাবে যেন কলকাতার বাংলা মুভির মুগ্ধ দর্শক হয়ে গিয়েছে । ত্রিনার ধারনা পুরো কৃতিত্বটাই রাহেলা বুয়ার । ত্রিনা হাসি আটকে রাহেলাকে জিজ্ঞেস করল ,'' এইটা কি মুভি দেখ , রাহেলাপু ?'' রাহেলা টিভি থেকে চোখ না সরিয়েই জবাব দিল ,'' এইটাতো '' ফাগলু '' , কেন আপনে দেখেন নাই ?আমি এই নিয়া ছয়বার দেখলাম । জলসা '' মফিজে'' প্রায়ই দেয় । '' ত্রিনার গলা ফাটানো হাসি শুনে রান্নাঘর থেকে প্রায় তেড়ে আসলেন রেবেকা সুলতানা । মেয়েটা বাসায় এসেছে প্রায় একমাস হতে চলল ,এই কয়দিনে একবারো সে এভাবে প্রান খুলে হাসেনি । রেবেকা উৎকণ্ঠা চেপে মেয়েকে বললেন ,'' কি হয়েছে ত্রিনা ? এভাবে হাসছিস যে ?'' ত্রিনা কোনমতে হাসি চাপতে চাপতে বলল ,'' কই আম্মু ? হাসতেছি না তো , আমি জলসা '' মফিজে'' দেবের ''ফাগলু'' দেখতেছি । হিহিহি ।'' রেবেকা একটা নিঃশ্বাস ফেলে রাহেলার দিকে মুখ শক্ত করে তাকিয়ে বললেন ,'' তোর ব্যাপারটা কি রাহেলা ? রাতের রান্না না করে সিনেমা দেখতে বসছিস ? রান্নাঘরে যা ! আমি বেগুন ভেজে রাখছি , তুই মাছটা রেধে ফেল ।'' রাহেলা খোপা বাঁধতে বাঁধতে উঠে গেল ,তার চোখে মুখে আফসোসের ছাপটা টিভির পর্দায় দেবের মুখে রিফ্লেক্ট হচ্ছে । ত্রিনা হাসি থামিয়ে চুপচাপ অনুভুতিহীন চোখে টিভির পর্দায় চোখ রাখল । মুভিটা বেশ উন্নতমানের অবান্তর ,এখানে নায়িকা কোয়েলের জন্যে এমন কোন মারামারি নেই যা দেব করছে না । এই অবান্তর জিনিস গুলি আবার দর্শক খুব মজা নিয়ে দেখে , আর এই একই জিনিস ত্রিনার আত্মাটাকে কুচি কুচি করে কাটে । নিঃশ্বাস ভারি হয়ে আসে তার - সিনেমার ভিতরের জগতটায় ভালবাসার এত পাগলামি , বাইরের জগতটায় একজনের জন্যে আরেকজনের মনে এইটুক ভালবাসা সারাজীবন বেঁচে থাকলে কি এমন ক্ষতি হত ? হঠাত করেই ত্রিনার চোখের সামনে দেব আর কোয়েলের মুখটা ঝাপসা হয়ে আসে । রেবেকা সুলতানা সোফায় বসে টিভির সাউন্ড ভলিউম কমিয়ে নিলেন । তারপর ত্রিনাকে বললেন , '' সাব্বির ফোন করেছিল ?'' ত্রিনা মাথা নাড়িয়ে বলল , '' আম্মু , ওর কি ফোন করার কথা ? চাইলেও তো পারবেনা , আমার মোবাইল নাম্বার চেঞ্জ করেছি ।'' '' বাসার টি এন টি নাম্বার তো আর বদলায় নি ।'' ত্রিনা মায়ের মুখের দিকে চেয়ে বলল , '' কোন নাম্বারেই ফোন আসেনি আম্মু ।'' টিভির পর্দায় আর মন থাকে না ত্রিনার । ভালবাসা তাকে হঠাত করেই সব দিয়ে আবার সব কেড়ে নিয়েছে । ভীষণ ভালবাসত সে সাব্বিরকে । অগোছালো চুলের মোটা চশমা পরা এই ছেলেটা ত্রিনার সমস্ত শিরা উপশিরাকে ভালবাসার আত্মিক বাধনে বেঁধে রেখেছিল । বিয়ের পাঁচ ছয়মাস পরে এই সাব্বিরের ধীরে ধীরে দূরে সরে যাওয়াটা ত্রিনার কাছে অনেকটা শিরা ধমনী ছিড়ে যাওয়ার মতই হয়েছে । সাব্বির কিভাবে যেন মেঘের মত রঙ পালটে ফেলেছিল । অফিস , মিটিং , ক্যারিয়ার আর সারাক্ষন বসের তোষামোদ করা , যে বস কিনা একজন সুন্দরী আধুনিকা ...... আর ভাবতে পারেনা ত্রিনা । গলার কাছে কি যেন একটা আটকে থাকে তার , সেটা না নামে , না উঠে আসে , কেবলই দম বন্ধ করে দিতে চায় । তবুও কি যেন বেঁধে রাখত ত্রিনাকে , এত অবহেলার পরেও সাব্বিরকে যে ভীষণ ভালবাসত সে । কিন্তু শেষরক্ষা হল কই ? সাব্বির যেদিন নিজের মুখে বলল ,'' তুমি , তোমার ভালবাসার চাইতে ক্যারিয়ার আমার কাছে অনেক বড় , বুঝেছ ?'' , ত্রিনা সেদিন তাল হারিয়ে মেঝের ওপর বসে পড়েছিল । মেঝের ওপর কাঁচের মতন তার হৃদয় টা ভেঙ্গে গেছে , সাব্বিরের কানে সেই শব্দ কোন দিন পৌঁছাবার নয় । ক্যারিয়ার কি ত্রিনার ছিল না ? কই সে তো পারল না ক্যারিয়ারের সাথে সাব্বিরকে একই স্কেলে দেখতে । তাই অনেক কিছু ভেবে নীরবে সরে এসেছে সে সাব্বিরের জীবন থেকে । তবুও ভাল থাকুক সাব্বির । '' এই ডিসিশান টা না নিলেই হত না তোর , তাইনা ?'' মায়ের ডাকে চমকে ওঠে ত্রিনা । কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে বলে , '' না আম্মু , হত না ।'' '' খুব বেশি বুঝিস তোরা । আর মেয়েরা তো ঘর করেনা ।'' '' আম্মু আমি তো বলেছি , যেখানে ভালবাসার লেশমাত্র নেই সেখানে ...'' '' চুপ থাক । ভালবাসা ,না ? বাংলাদেশের কয়টা ঘরে ভালবাসা আছে বলে মেয়েরা সংসার করছে ? অবহেলা ছাড়া কিচ্ছু নেই ওদের ।'' ত্রিনা উঠে দাড়াল , এই প্রশ্নের জবাব সে জানে , কিন্তু দিতে ইচ্ছে হচ্ছেনা । ত্রিনা কিভাবে বুঝাবে সবাইকে যে সাব্বিরকে সে এখনও ভালবাসে । কিন্তু ওর সাথে ঐভাবে থাকতে গেলে এই ভালবাসাটুকু টিকবে না । ত্রিনা চায়না সাব্বিরের জন্যে তার ভালবাসাটুকু মরে যাক । কিন্তু এসব আম্মু কে শুনিয়ে তো লাভ নেই , তাই নিজের ঘরের দিকে পা বাড়িয়ে বলল ,'' আমি ঘুমাবো আম্মু , সকাল সাতটায় ট্রেন আমার, রাতে খেতে ডেকো না ।'' ২. চিটাগঙ্গের উদ্দেশ্যে একটু পরেই যাত্রা শুরু করবে ট্রেন । ত্রিনা একটা নিঃশ্বাস আটকে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল , আগে কখনও চিটাগং যায়নি সে , সাব্বির বলেছিল নিয়ে যাবে । সব স্বপ্নই মরে গেছে । কিন্তু স্বপ্ন ভাঙ্গার দুঃখ কান্না দিয়ে কমানো যায়না , তাই এক ঠোঙ্গা বাদাম হাতে নিয়ে সে হাসি মুখে বসে রইল । চাকরির একটা ইন্টারভিউ আছে কাল ,চাকরিটা হয়ে গেলেই আর চিন্তা নেই ,একাই জীবন টা পার করে দেবে সে । ত্রিনার পাশের সিটে কেউ নেই , পুরো কম্পারটমেন্টে হাতে গোনা মানুষ । ভিড় ছাড়া যাত্রা টা ভালই হবে মনে হচ্ছে । এক বৃদ্ধাকে পানি খেতে দেখে ত্রিনার হঠাত মনে পড়ল , পানির বোতল টা বাসায় ফেলে এসেছে সে । অথচ এখনই তার পিপাসা পেয়ে গেছে , কি আর করা , ট্রেনের জানালায় মাথা বাড়িয়ে দেখতে লাগল কোন পানি বিক্রেতা পাওয়া যায় কিনা । একদম ভুত দেখার মত চমকানো বোধ হয় এটাকেই বলে । পেস্ট কালারের শার্ট আর ব্লু জিন্সে প্রায় দৌড়ে দৌড়ে আসা এইটা কাকে দেখছে ত্রিনা ? ভার্সিটি লাইফের সেই অগোছালো সাব্বির এতদিন পর কোত্থেকে ? ত্রিনা জলদি করে জানালা দিয়ে মাথা ঢুকিয়ে ফেলল । নিশ্চয়ই পাগল হয়ে গেছে সে । বর্তমানের ক্যারিয়ার সচেতন ধোপদুরস্ত সাব্বির কে সেই পুরনো রুপে দেখতে পাওয়াটা পাগলামির লক্ষন ই । এরকম পাগলা মাথা নিয়ে সে ব্যাংকে চাকরি করবে ? কিন্তু এসব কি ? সাব্বির তো দেখছি সত্যি সত্যি এসেছে । ত্রিনা বিস্ময়ের সাথে আবিষ্কার করল , সাব্বির ট্রেনের জানালা দিয়ে তাকে ডেকে বলছে ,'' এই এই , পানি আছে তোমার কাছে ? পাউরুটি ? এই ?'' ত্রিনা বিস্ফারিত চোখে মাথা নাড়িয়ে বলল , '' পানি নেই । পাউরুটি আর ডিমের স্যান্ডউইচ ...'' '' হোয়াট দ্যা হেল ... ট্রেন তো আমারে ছাইড়াই যাবে দেখতেছি । ওয়েট , পানি কিনে আনি !! '' '' তোমাকে আসতে বলছে কে ?'' জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতে তাকাতে বলল ত্রিনা । ঢাকা থেকে চলা শুরু করেছে ট্রেন টা । '' তুমি '' , সাব্বিরের সোজাসাপটা জবাব । ত্রিনা গম্ভীর গলায় বলে ,'' মানে ?'' '' মানে তুমি স্বপ্নের মাঝে আমাকে চারবছর আগের মত বলেছ ,' আমার সাথে যাবি না ?' আমি বলেছি ,' যাব না মানে ? তুই দুই মিনিট দাঁড়া আমি দশ মিনিটের মাঝে আসতেছি ' '' ত্রিনা কান্না আটকে বলল ,'' সাব্বির , লাইফটা গেইম না ......'' সাব্বির ত্রিনার হাত ধরে তাকে থামিয়ে বলল ,'' ঠিক এই কথাটাই আমি এই এক মাসে রিয়েলাইজ করেছি,ত্রিনা । আমাকে মাফ করা যায়না ? আর এমন হবেনা , প্রমিস । '' ত্রিনা হা করে তাকিয়ে আছে । এটা সেই সাব্বির ? সাব্বির বলছেই ,'' আমার শালাটা ভাল, আমাকে সব ইনফরমেশন ও ই দিয়েছে । তুমি যে পানি ফেলে আসছ সেটাও ... '' ত্রিনা বুঝল , তার গলায় কোন আওয়াজ আসছে না । অনেক কষ্টে বলল , '' সাব্বির আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা... '' সাব্বির ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে মুখ খুলতে লাগল । ত্রিনার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল , '' পানি খাও, বিশ্বাস হবে । তারপর আমরা পাউরুটি আর ডিমের স্যান্ডউইচ খাবো ।'' ত্রিনা সাব্বিরের পেটে গুতা মেরে বলল ,'' এখনই সব খাবা , না ? তাইলে দুপুরে কি খাবো ?'' সাব্বির মাথা চুলকে বলল ,'' ইয়ে মানে দুপুরে ভাত খাবা ? আমি না ডিম ভুনা করে আনছি , যদিও ভাল হয়নাই ......'' ত্রিনা হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে থাকল সাব্বিরের দিকে । অনেক দিনের পুরানো সেই সাব্বির , একদম জলসা মুভিজের সেই পাগলু ।

নুপুরের সেই ভালোবাসা

<<< নূপুরের সেই ভালোবাসা >>> কি আজব ব্যাপার, এভাবে তাকায় কেনো আমার দিকে??? বোড়িং লাগে। ভাবছে নূপুর। ছেলেটার নাম রাজু। এই পাড়ার সবচেয়ে হ্যান্ডসাম এবং ব্রিলিয়ান্ট ছেলে। সব মেয়েই অর জন্য পাগল তাই রাজু এই ব্যপেরটা খুব enjoy করে। আর এটা নুপুর একদমই লাইক করে না। আর কিছু বলতেও পারে না। কারণ, ছেলেটা তার পাশের বাড়িতে থাকে। আর ওই ছেলে থেকে নোট নিতে হয়। তবে নিজে নেয় না , মেঝো ভোন নিয়ে দেয়। ছেলেটিও কিছু বলে না। মুছকি হাসি দেয়। আর বলে যার লাগবে সে তো কিছুই বলে না কিন্তু আপনি খুঁজে দেন কেনো? নুপুর এর মেঝো ভোন আপু লিপি হাসে। আর বলে অ একটু লাজুক, আর কথা কম বলে তাই আমি খুঁজে দেই। রাজু বলে, আপু, ওকে বলবেন আমার সাথে কথা বলতে , আমি তো ওরই air mate তো আমার কাছে লজ্জা কি? একদিন নুপুর বাইরে তথেকে আসছিলো, আর মেইন গেট এ রাজু আর তার বাবা দাঁড়িয়ে গল্প করছে। রাজু তার বড় আপুর বাসায় থেকে পড়াশুনা করে। তাই তার বাবা প্রায় বেরাতে আসে রাজুকে দেখতে। রাজুঃ এই যে নুপুর, উনি আমার বাবা, কাল এসেছে। নুপুর পায়ে ধরে সালাম করল। আর বলল, “আঙ্কেল, আমাদের বাসায় আসবেন কিন্তু।“ নুপুরের এক ফ্রেন্ড রাজুকে লাইক করে। তাই মাঝে মাঝে রাজুর ভোনের কাছে গিয়ে কথা বলে আসে। কিন্তু নুপুর এসব লাইক করে না। নুপুর একটু reserve টাইপের। তাই তো রাজু ওকে লাইক করে। রাজু নুপুর কে একটা বই আর কিছু গানের ক্যাসেট দেয়। কিন্তু বইটি পড়ে, গান গুলো শুনে গিফট গুলো ফিরিয়ে দেয়। রাজু ভাবে এটা কি ধরনের মেয়ে??? এভাবেই দিন যায়, হঠাৎ একদিন রাজু ছাদে এসে দেখতে পায় নুপুর একা দাড়িয়ে। কেউ নেই তার সাথে। এই তো সুযোগ মনে মনে ভাবলো রাজু। নুপুরের কাছে গিয়ে বলল কি বেপার ? কেমন আছো? কি করছো? নুপুর বলল এইতো কিছুই না। রাজু বলে উঠলো আমি তো তোমাকে নোট দেই, পড়ায় হেল্প করি। আমাকে একটু হেল্প করবে? নুপুর বলল হ্যাঁ বলো… কি করতে পারি? রাজু বলল আমি না একটা মেয়েকে ভালবাসি কিন্তু ভয়ে কিছু বলতে পারি না। কি করা যায়? নুপুর বলল যে ভয় না পেয়ে ডাইরেক্টলি ওকে বলে দিতে যে ও মেয়েটাকে ভালবাসে। রাজু সাথে সাথে বলল যে, আমি তোমাকে ভালবাসি। অনেক দিন ধরে বলবো বলবো ভাবছি কিন্তু বলতে পারছি না। নুপুর অবাক হল আর রাগ করল কিন্তু কিছুই বলল না। বলল যে শুধু কয়েকদিন টাইম চাই। রাজু বলল ওকে!!! কিছুক্ষন দুজনই চুপ। হঠাৎ রাজু বলে উঠলো তোমার হাতটা একটু ধরতে পারি? নুপুর বলল আমি কি তোমার প্রোপজাল এ হ্যাঁ বলেছি? তো হাত কেন ধরবা ? সরি!!! বলল রাজু। অনেক দিন দেখা যায় না নুপুরকে। ওই ঘটনার পর নুপুরকে আর দেখেনি রাজু। রাজু বুঝতে পারলো যে নুপুর কি উত্তর দিবে। তারপরও তার মুখ থেকে শুনতে চায়। একদিন দেখা হল… রাজু বলল আমার উত্তর কৈ? নুপুর বলল দেখো আমার আর তোমার মধ্যে এফ্যায়ার কখনই না। আর তুমি অনেক স্মার্ট ছেলে, অনেক ভাল মেয়ে পাবা। So আমাকে আর ডিসটার্ব কর না। অনেকটা নিষ্ঠুর হয়ে কথা গুলো বলল। রাজুও কিছু বলল না শুধু দুচোখ চলচল করে তাকিয়ে দেখলো নুপুর চলে যাওয়া। কিছুদিন পর নুপুর জানতে পারে রাজুকে পরিবার থেকে জোর করে বিয়ে করানো হচ্ছে। বেচারা বিয়ে করতে চাচ্ছে না। তারপরও জোর করায় মূলত বিয়েটা হয়ে গেল। বিয়ের পর নতুন বউকে নিয়ে বাড়িতে এসেছে। বউটাউ হয়তো বুঝতে পেরেছিল যে তার বর অন্যকোন মেয়েকে ভালবাসে। রাজু নুপুরকে একটি ডায়রি দিল। আর বলল এটা আর ফেরত দিতে হবে না। বাসায় গিয়ে রাতে পড়িও। ডায়রিটা পরে নুপুর জানতে পারলো যে রাজু কতটা ভালোবাসতো নুপুর-কে। ওদের কখন কোথায় কি কথা হল? নুপুর কোন দিন কোথায় যায়? কোন দিন কি রঙের জামা পরে সব তো রাজু জানে। যেদিন নুপুর ওকে refuse করে সেদিন ও সারারাত বাইরে ছিল , বাড়ির ভিতরে যায় নি। সারারাত সুধু কেঁদেছে। আর সবার শেস পেজে লেখা ছিল “আমাকে কখনো বুঝলে না যে তোমাকে কতটা ভালবাসি।” এই কথাটা পড়ার মাত্র নুপুরের চোক দিয়ে অশ্রু ছল ছল করে পরতে লাগলো!!! তারপর থেকে ওরা ওই বাসা ছেড়ে অন্য বাসায় চলে যায়। এর পর সেই চুপচাপ মেয়েটি আরও বেশি চুপচাপ হয়ে যায়। দিন কাটছে! ওরা একলা, নিঃসঙ্গ একাকিত্তে। নুপুর বিয়ে করে নি আজও……………………………………………
<<< তোমাকে ঠিক চেয়ে নেব >>> ১ . খুব মেঘ করে বৃষ্টি নামার আগে রাতের আকাশ যখন অফুরন্ত উল্লাসে নিজেকে লালচে রঙ্গে সাজায়, তখন মাঝেমাঝে আমার মনে অদ্ভুত একটি ইচ্ছে জেগে উঠে । বোকা বোকা একটি ইচ্ছে , কিন্তু আমার কাছে এই ইচ্ছেটি ভীষণ প্রিয় । রাতের মেঘলা আকাশ দেখলে আমার কেন যেন নির্জন একটি দ্বীপ কিনে ফেলতে ইচ্ছে করে । ইচ্ছেমত সবুজ আর নীলচে রঙ করা সেই দ্বীপটিতে শুধু আমার একলা রাজত্ব হবে । আমার অনেকদিনের ইচ্ছে , মাঝরাতের আকাশ ভেঙ্গে সেখানে যখন ঝুম বৃষ্টি নামবে , সেই বৃষ্টিতে আমি তখন দুরন্ত নদীর মত উল্লাসে মেতে উঠব । সেই বৃষ্টির আনন্দ থেকে বঞ্চিত করবার জন্যে কোন শাসনের জাল আমাকে বাঁধতে আসবেনা । আমার একলা দ্বীপে কেবল আমার মুগ্ধতায় মাখা বৃষ্টি বিলাস হবে । আর আমার সামনে থাকা ছোট্ট সমুদ্রতটে অবিরাম দুলতে থাকবে রঙ্গিন কোন পানসি , হতে পারে সেটি অনেক দুরের কোন দ্বীপাঞ্চল থেকে ভেসে এসেছে , হতে পারে সেটি কোন খেয়ালি রাজপুত্রের বিলাসী ভ্রমণসঙ্গী । হয়ত সেই পানসিতে উদাস নয়নে বসে থাকবে সেই ভীষণ সাহসী বৃষ্টিমুগ্ধ রাজপুত্র । আর উন্মত্ত বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থেকে আমি দেখব সেই রাজপুত্রের চুলের সাথে বাতাসের যুদ্ধ , বৃষ্টির ছিটেতে ঝাপসা হয়ে যাওয়া তার চশমার কাঁচ । এই যা ! কি ভাবছি , রাজপুত্ররা বুঝি চশমা পরে ? আছে কোন রাজার পুত্র যে কিনা চোখে কম দেখে বলে চশমা পরত ? কি জানি ! নিজের অজান্তেই হেসে ফেললাম । আমার ভাবনা গুলি এত বাউন্ডুলে কেন হয় কে জানে ? ফুটপাথের উপর ধীর পা ফেলে এই ভরসন্ধ্যাবেলায় যখন আমি ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি , তখন আমার এই অদ্ভুত কল্পনাবিলাসীতার কি কোন কারন থাকা উচিত ? না আকাশে কোন মেঘ আছে , না আছে ঝড়ো হাওয়া । তবে কেন যেন মনে হচ্ছে আজ রাতে বৃষ্টি নামবে , শরৎকাল তো সারপ্রাইজ দিতে ভীষণ পছন্দ করে বলেই জানি । হঠাত লক্ষ্য করলাম , একা একা হাসছি বলে কয়েকজন পথচারি ঘুরে আমার দিকে তাকাচ্ছে , সম্ভবত পাগল ঠাওরেছে আমাকে । সে যাকগে ,যার যা ভাবার তাই ভাবুক । কে কি ভাবল তা নিয়ে ইরা কিন্তু মাথা ঘামায় খুব কম সময়েই , হুম । ক্লিনিকটা ছোটখাট , ব্যক্তিমালিকানাধীন । আমাদের ছোট্ট এলাকার মানুষদের ভরসার স্থান । আর আমার মত রোগাপটকা হলে তো কথাই নেই , এই দুইমাসে আমি তৃতীয়বারের মত এখানে হানা দিলাম । এবারের এক্সকিউজ - কি বলা যায় ? আমি দুদিন হল আমার নাকের অস্তিত্ত টের পাচ্ছিনা , বাজে টাইপের বিচ্ছিরি লেভেলের সর্দিতে আমার নাক সম্ভবত বিলীন হয়ে গেছে । এই সমস্যাটি কিন্তু নতুন নয় , দুইমাস পরপরই আমার এই অবস্থা হয় । তবে সমস্যায় পড়তে হয় রুমাল খুঁজে পাওয়া নিয়ে । এত রুমাল কোথায় আর পাব ? বাসার মানুষজনের যাবতীয় পুরানো আধপুরানো জামাকাপড় আমার জন্যে বিশেষভাবে সংরক্ষন করা হয় । আমি এদের সদ্গতি করি নাকি দুর্গতি করি তা ঠিক জানিনা , তবে আমার সর্দি সমস্যার যে একটা গতি হয় তা কিন্তু সত্যি । এক ঘন্টা অপেক্ষার পর আমার সিরিয়াল যখন আসল , আমি তখন ঠিক '' পাইছিরে " টাইপের ইমোতে ছিলাম । কিন্তু আমি দরজা খুলে ঢুকবার পরই আমার দিকে তাকিয়ে ডাক্তারের ১০০ ওয়াট বাল্বের মত চেহারা ২৫ ওয়াট বাল্বের মত হয়ে গেল । আমি এখানে এত বেশি হানা দেই যে ডাক্তার থেকে শুরু করে কম্পাউন্ডার পর্যন্ত সবাই আমার চেনা হয়ে গেছে ,এই ডাক্তার তো আরো এক কাঠি উপরে । ফিচলা হাসি হেসে ডাক্তার সাহেব বললেন ,'' কি খবর তোমার ? আবার রোগ বাঁধিয়েছ ? তুমি বরং কাঁথা বালিশ নিয়ে হসপিটালে এসে পড় , তোমার ইন্টেন্সিভ কেয়ার প্রয়োজন ।'' আমি কি বলব বুঝলাম না , সত্যি বলতে কি , এই ডাক্তারের মত বেয়াদব কিসিমের ডাক্তার আমি আমার জীবনে খুব কম দেখেছি । আরে বেটা আমার অসুখ হলে আপনার কী ? আপনার তো অসুখি হবার কারন নেই , আপনার আরো টু পাইস ইনকাম হবে । তাও এত প্যাচালের কি মানে আছে ? আমার পুরো ছোটবেলা অবশ্য কেটেছে এই বেয়াদব ডাক্তারের বাবার চিকিৎসা নিয়ে , তিনি এখনও চিকিৎসা পেশাতেই আছেন , তবে অন্য হাসপাতালে বসেন । নিজের এই ক্লিনিকটাতে বসার আর এখন সময় পান না , কেন যেন বুড়ো বয়সেই ডাক্তার গুলি বিখ্যাত হয়ে যায় । এমন ভাল মানুষ ডাক্তারের ছেলে কিভাবে এমন ফিচলা বেয়াদব হল সেটা একটা ভাববার বিষয় । তবে আপাতত সেটা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে আমি চেয়ারে দুপ করে বসে পড়লাম । মুখ গোমড়া করে সরু নেইমপ্লেটের দিকে তাকিয়ে রইলাম , যেখানে লেখা - ডাঃ ফারাবী আহসান ( হ্যান ত্যান ডিগ্রি ) । '' এবার বল দেখি কি হয়েছে ?'' আমি খ্যাসখ্যাসে গলায় বললাম ,'' সর্দি জ্বর , গলাব্যাথা , দম নিতে পারিনা ।'' আমার দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে বলল , '' তোমাকে ওষুধ হিসেবে আইসক্রিম দিয়ে দেই ?'' মেজাজ বয়েলিং পয়েন্টে উঠে গেল , কিন্তু গলা ব্যথার কারনে কিছু বললাম না । '' ইরা ,তোমাকে মাঝেমাঝেই আইসক্রিম হাতে রিকশায় দেখা যায় , তাই বললাম । এখন বরং তুমি একটু সোফায় গিয়ে বস ,আর চারটা রুগী আছে , দেখে নেই । তুমি পুরানা রুগি তো , তোমার সাথে একটু আলাপ করব , ঠিক আছে ?'' বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম , এতক্ষন ধরে বসে আছি , আরো বসে থাকতে বলে ? কত বড় সাহস , আরে আমার সময় কি আলুখেতে ধরে নাকি ? তারপরেও আমি হতাশার সাথে আবিষ্কার করলাম , রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে আমি ঠিক সোফাতে গিয়েই বসেছি । '' কফি আনাই ?'' আমি কিছুই বললাম না । বেয়াদব ছেলেদের সব কথার উত্তর দিতে নেই , তবে মিনিট পাঁচেক পরে আমাকে ঠিক গরম কফি হাতেই বসে থাকতে দেখা গেল । পাঠক কি ভাবছেন ? গরবল কিনা ? জি, ঠিকই ভাবছেন , এভরিথিং ইজ গরবল । গরবল টা যখন শুরু হয়েছিল সেটা অনেক অনেক আগের কথা । আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়তাম । আজকের ডাঃ ফারাবী তখন মেডিকেল প্রথম বর্ষের ছাত্র । এলাকায় মেয়েদের কাছে তিনি সেই লেভেলের হিট । বিশেষ করে কলেজে পড়ুয়া আপুদের কাছে তো তিনি তখন চোখের মনি । চোখে চশমা লাগিয়ে, হাতে বই, কাঁধে ব্যাগ আর গায়ে সাদা এপ্রন জড়িয়ে তিনি যখন বের হতেন আপুদের চেহারা তখন দেখার মতন হত । আপুরা ফারাবী ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকত আর আমি আপুদের হা করা চেহারার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে স্কুলে যেতাম । আপুরা বায়োলজি বইয়ের ইম্পরট্যান্ট কোশ্চেন দাগাতে প্রায়ই ফারাবী ভাইয়ের শরনাপন্ন হত বলে আমি শুনতাম । এমন কি আমার বান্ধুবিরাও এই ছুতায় তার সাথে কথা বলত । আমাকে নিয়ে যাবার ও অনেক চেষ্টা করা হয়েছে , কিন্তু কথা হল বায়লোজি জিনিসটা আমার কোন কালেও পছন্দ ছিল না । ইম্পরট্যান্ট প্রশ্ন দাগিয়েও আমার লাভ হবেনা সেটা আমি জানতাম এবং যেহেতু সেই '' সো কল্ড '' ফারাবী ভাইয়ের প্রতি আমার কোন দুর্বলতা নেই তাই আমি কখনই আমার বান্ধুবিদের সাথে যাই নি । ফারাবী ভাইদের বিখ্যাত বাসাটা পর্যন্ত আমি সনাক্ত করিনি , শুধু তাদের গলিটা চিনতাম । ফারাবী ভাইয়ের প্রতি আমার এই অনাকাংখার কারন আমার বান্ধুবিরা প্রায়ই বুঝার চেষ্টা করত । আর এই ঝাউলা চুলের ঘুম ঘুম চেহারার আতেল ছেলের দিকে তাকিয়ে এনাদের এত প্রেম কোথা থেকে উৎপত্তি হত, আমি সেটা বুঝার চেষ্টা করতাম । কথা হল , আমি যেটা বুঝার চেষ্টা করতাম, দুই বছর পরে হঠাত করেই সেটা একদিন আমি বুঝে গেলাম । এস এস সি এক্সাম দিবার পর আমার তখন বিশাল অবসর । এত এত প্ল্যান , এটা করব ,ওটা করব , এখানে যাবো, ওখানে যাবো । কিন্তু '' হিট '' এরোসলের বিজ্ঞাপনের মতই আমার সব প্ল্যান ভেস্তে দিল একটা মশা , এক ডজন মশাও হতে পারে । বেশ কয়েকটা মশা না কামড়ালে আমার ওরকম বিচ্ছিরি জ্বর হবার কথা নয় । আমি আক্রান্ত হলাম ডেঙ্গুজ্বরে । অনেক বেশি দুর্বল হয়েছিলাম আমি , আমার ট্রিটমেন্টের জন্যে আব্বু ফারাবী ভাইয়ের বাবাকে বাসায় নিয়ে এসেছিল । চারদিন স্যালাইন দিতে হয়েছিল , আর সেটাই হল কাল । প্রথম দিন স্যালাইন দেবার সময় আমি দেখলাম , সুপারহিট ফারাবী ভাইয়া আমাদের বাসায় এসেছে তার বাবার কথামত । আমার স্পষ্ট মনে আছে, আমি থতমত খেয়ে যখন তার দিকে তাকিয়েছিলাম , সে ফিচলা হাসি দিয়ে বলেছিল , '' কি ইরা ? এইটুক একটা মশাই কাত করে দিল ?'' এরপর স্যালাইন লাগাতে লাগাতে একটা প্রান খোলা হাসি । এখন আমি ভাবি , সেদিন সেই হাসি দেখে আমি তো আমি , যেই মেয়ে পাগল হতনা তার হার্ট নির্ঘাত রেইনফোরসড সিমেন্ট দিয়ে বানানো বলে ধরে নেওয়া যেত । অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ঐ একটা হাসি দেখেই আমার জ্বর অর্ধেক ভাল হয়ে গেল । আমি দুর্বল গলাতেই জবাব দিলাম , '' ওইটুক মশা আপনাকে কামড় দিলে আপনি শুধু কাত না , উপুড় হয়ে যেতেন ।'' আবার সেই হাসি । মানুষ এত সুন্দর করে এরকম বিধ্বংসী হাসি দেয় কেমন করে ? মনে হল, নাহ আর বাচবনা বোধ হয় । আতেল একটা ছেলের হাসি দেখে তাৎক্ষনিক ভাবে পাগল হয়ে গেছি , ভাবা যায়না , কি বাজে অবস্থা ! সিনেমায় দেখতাম, ছেলেরা মেয়েদের হাসি দেখে এভাবে পাগল হয় , কিন্তু একটা মেয়ে হয়ে আমি এমন একটা ফিচলা আতেলের হাসি দেখে এভাবে পাগল হয়ে গেলাম , এইটা কি একটা কথা হল ? এইটা কেন হল ? কিভাবে হল ? এবং অতঃপর কি হবে ? কোনকিছুই আমার জানা ছিল না । আমার শুধু জানা ছিল , আমি শেষ । আমার নীরব পাগলামিতে কেটে গেল অনেকদিন । আমি এসে পড়লাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে আর তিনি এখন পুরোদস্তুর ডাক্তার সাহেব । ফারাবী ভাই পাঁচ মাস হল এই হসপিটালে বসে । এই পাঁচমাসে আমি লক্ষ্য করেছি অসুখবিসুখের সময় গুলি আমার বড়ই মধুর হয়ে যায় , এমনকি রোদের মাঝে আইসক্রিম খেয়ে জ্বর বাঁধাবার জন্যে আমি কেমন যেন ব্যাকুল হয়ে যাই । বাসায় কারো ডাক্তার দেখাবার দরকার হলে টার্ম ফাইনালের আগের রাতেও আমি ধিংধিং করে তার সাথে হসপিটালে চলে যাই । এভাবে কেউ কারো প্রেমে পড়ে ? '' বাহ বাহ তুমি তো কফিমগ নিয়ে ভাল মডেলিং কর , কিন্তু আমি তো মডেলিং করার জন্যে এটা দিই নাই , তোমার গলার জন্যে দিয়েছি '' ফারাবী ভাইয়ার কথায় বাস্তবে ফিরে আসলাম , বললাম ,'' আমাকে আর কতক্ষণ বসতে হবে ? '' '' এখানে এসে বস '' , সামনের চেয়ারটা দেখিয়ে দিল । আমি সোফা ছেড়ে চেয়ারে আসতেই বলল ,'' কি গরম দেখেছ ? একটা বৃষ্টি হওয়া উচিত কি বল ? কতদিন হয়না ।'' '' কে বলেছে আপনাকে ? গত পরশু মাঝরাতে অসাধারণ একটা বৃষ্টি হয়েছে '' '' তাই নাকি ? আমি তো টের পেলাম না , তুমি মনে হয় স্বপ্নে দেখেছ ।'' '' জি না , আমি কাটায় কাটায় সোয়া এক ঘন্টা ভিজলাম , আর আপনি বলেন আমি স্বপ্নে দেখেছি ?'' বলতে বলতেই দেখলাম , ফারাবী ভাইয়া চোখ সরু করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে । এইরে ! আমি কি করলাম ,বৃষ্টিতে ভিজার কথা বলে দিলাম ? আমার জ্বর আর গলা ব্যাথার এটাই যে আসল কারন ! আবার তার পুরানো ট্রিক্সে আমি পা রাখলাম , জিভে একটা কামড় দিয়ে মাথা নিচু করলাম । '' তুমি এসব কেন কর ? হাসপাতালে আসতে খুব মজা ? হাসপাতালে চিকেন ফ্রাই পাওয়া যায় ?'' আমি ফোস করে নিঃশ্বাস ফেললাম । আরে মাথামোটা ডাক্তার , হাসপাতালে ইরা 'কি' পায় আর ' কাকে' পায় সেইটা তুই জীবনেও বুঝবিনা , তাই এখন বকবক না করে চুপ থাক । '' কি কথা বলনা কেন ?'' ফারাবী ভাই একই ভাবে তাকিয়ে আছে । আমি তার মত দৃষ্টি দিয়েই বললাম , '' আপনি জানেন না আমার গলা ব্যথা ? আমার কথা বলতে কষ্ট হয় ?'' '' সেইটা তো ডাক্তারের দোষ না , তুমি মাঝরাতে বৃষ্টিতে ভিজবা আর সর্দি কাশির সোহাগ সহ্য করবানা , তাই কি হয় ?'' আমি বিরক্ত হয়ে চোখ নামালাম , এই মাথামোটার সাথে কথা বলার কোন মানে হয়না । প্রেস্ক্রিপশান নিয়ে উঠতে যাবো , তখন মহামান্য বললেন ,'' আচ্ছা তুমি প্রাইভেট পড়াও ?'' মনে মনে বললাম ,তোমারে পড়াব , রোমান্টিজম ,পড়বা ? এমনিতে মাথা নেড়ে বললাম ,'' পড়াই না ।'' '' পড়াবা একজনরে ? একটা মেয়ে ? ক্লাস এইটের ।'' আমি দাঁত বের করে বললাম ,'' আপনার বোন নাকি ?তাইলে পড়াবো ।'' সে চেয়ারে হেলান দিয়ে বলল ,'' আমার বোন সেইটা নিশ্চিত হলে কেমন করে ? গার্লফ্রেন্ডের বোন ও তো হতে পারে ?তাইলে পড়াবা না ?'' আমি লম্বা একটা শ্বাস নিতে গেলাম , কাশি চলে আসল । বেশ কিছুক্ষন পর কাশি থামলে তাকে বললাম ,'' আপনার গার্ল ফ্রেন্ডের বোন কে আমি পড়াব কেন ?'' ফারাবী ভাই মুচকি হেসে বলল ,'' কেন ? ইঞ্জিনিয়ারিং এর পোলাপাইনরা কারো গার্ল ফ্রেন্ডের আত্মীয়স্বজন পড়ায় না নাকি ?'' '' আমি দূরে গিয়ে পড়াব না , বাসায় কেউ রাজি হবেনা ।'' ফারাবী ভাই একটা কাগজে কিছু একটা লিখে আমার দিকে বাড়িয়ে বলল ,'' এই ঠিকানা , আমাদের এরিয়াতেই । পড়াবা না ?'' এই ছেলের মত খারাপ ছেলে দুনিয়াতে দুইটা নাই । প্রেম করে , গার্ল ফ্রেন্ড আছে , সেইটা আমাকে শুনাল আবার শালী কে পড়ানোর অফার ও দিল , কি বাজে অবস্থা - ভাবা যায়না ! আমি আড়চোখে তার দিকে তাকালাম , মাথা জ্বলে যাচ্ছিল আমার , তার চোখের চশমাটা গুঁড়া করে ফেলতে ইচ্ছে হচ্ছিল । কিন্তু সে মুখ করুন করে বলল ,'' প্লিইজ ?'' এরপরেও কি না বলা যায় ? এক মুহূর্ত পর কি যেন ভেবে বলে ফেললাম ,'' ঠিক আছে ।'' সে তার প্রাণখোলা হাসিতে আমাকে ভাসাতে ভাসাতে বলল ,'' কাল বিকেলে গিয়ে তোমার ছাত্রীর সাথে দেখা করে এসো । আমি ওকে বলে দিব ।'' '' ওকে '' বলে বের হয়ে আসলাম । ছেমড়া তোর গার্ল ফ্রেন্ডরে ইরা দেখে নেবে ! বের হওয়ার সময় একজন কম্পাউন্ডার আর দুইজন নার্সের সাথে দেখা হল । প্রত্যেকেই '' ম্যাম ভাল থাকবেন'' '' শরীরের খেয়াল রাখবেন '' ইত্যাদি উপদেশ দিল । আরে আমি একটু আগে ছ্যাকা খেয়ে সুস্থ হয়ে গেছি । আমার গা থেকে কি ছ্যাকা খাওয়া পোড়া গন্ধ আসছে নাকি যে আমাকে '' খেয়াল রাখবেন '' '' ভাল থাকবেন '' এসব শুনাতে হবে ? আমি দিব্যি আছি । ফারাবী ভাই আমাকে ছ্যাকা দিবে আমি সেটা জানি । কথা হল , আমি ছ্যাকা খেতে পারি ,তাই বলে ব্যাকা হব নাকি ? ২ . যে গলির সামনে দাঁড়িয়ে আছি , সেই গলিতেই ফারাবী ভাইয়াদের বাসা , কোন টা আমি জানিনা , তবে এই গলিতেই । আমি চাইলেই আমার বান্ধুবিদের কাছ থেকে জানতে পারতাম ফারাবী ভাই কোন বাসায় থাকে । কিন্তু আমি চাইনি , কারন আমি চাইনি কেউ জানুক আমি তাকে পাগলামির এবসলিউট পয়েন্টের কাছাকাছি লেভেলের পছন্দ করি । বড় আপুরা তার পিছনে ঘুরতে ঘুরতে বয়ফ্রেন্ড জুটিয়ে ফেলেছেন , কয়েকজনের বিয়েও হয়ে গেছে , আমার বান্ধুবিদের ও একই দশা । বাকি ছিলাম আমি , সবার অগোচরে , হারাধনের এই শেষজন ও গতকাল ছ্যাকা খেয়েছে । ইহা ব্যক্তি যে নিজের বাসার আশেপাশের মেয়ের সাথে প্রেম করবে সেটা কে জানত ? বেটা মাথামোটা , প্রেম যে কর , ছ্যাকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে আমার কাছেই তুমি আসবা , এই আমি বলে দিলাম । তোমার সাথে কোন চিজ প্রেম করে সেইটা দেখতেই আমি পড়াতে আসছি । মেয়েটার নাম তিহা । দুই ঝুটি করা বাবু বাবু চেহারার মেয়েটাকে প্রথমেই আমার ভাল লেগে গেল । তিহাও আমাকে '' আপু আপু '' করে অস্থির করে দিল । কিন্তু এভাবে ভাল লাগলে তো হবেনা , এরা হল গিয়ে আমার ভিলেন , ভিলেন দের ভাল লাগলে কি হবে ? বাসায় এদিকে ওদিকে যেদিকেই তাকাই সেদিকেই তিহার আম্মাকেই দেখি । মোটাসোটা আন্টি রা যে কিউট টাইপের ভাল সেটা আরেকবার প্রমান হয়ে গেল । টিচার হিসেবে বাসায় এসেছি , পড়ানোর স্কিল সম্পর্কে আন্টি আমাকে কিছুই জিজ্ঞেশ করলেন না । বরং গরম গরম সিঙ্গারা সামনে এনে বললেন ,'' এই মেয়ে , জলদি একটা খেয়ে বল তো কেমন হয়েছে । ভাল হলে আরও কয়টা বানাব ।'' সিঙ্গারা টিঙ্গারা খেয়ে আমি যে ই বলতে যাচ্ছিলাম ,'' আন্টি আমি তো তিহা কে পড়ানোর জন্য আসছিলাম , তা ...... '' আন্টি আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন ,'' ফারাবী আমাকে বলেছে । তোমার নাম তো ইরা , তাইনা ?'' চিন্তায় পড়ে গেলাম । মা - মেয়ে যেরকম ভয়ংকর লেভেলের ভাল , তাতে আসল ভিলেন ও যে এদের কাছাকাছিই হবে , সেটা আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম । কিন্তু তাকে তো দেখছিনা । তিহার সাথেই কথা বলছিলাম । চলে আসব তার কিছুক্ষন আগে তিহা বলল , '' জানেন ইরাপু, ফারাবী ভাইয়া না একটা মিথ্যুক ।'' '' তাই ? কেন কেন ?'' '' আমাকে বলেছে , আপনি নাকি ভয়ানক রাগী । কত বড় মিথ্যুক , দেখেন ।'' আমি দম আটকে বললাম ,'' তোমার আপু মনে হয় অনেক শান্তশিষ্ট , তাইনা ?'' '' আপু ?'' '' হুম , কোথায় তোমার আপু ? দেখলাম না তো ।'' '' আমার আপুর কথা জানলেন কিভাবে ?'' '' তোমার ফারাবী ভাই ......'' তিহা আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলল ,'' বুঝছি ইরাপু ।'' '' মানে ?'' '' ওনার কথা আর বইলেন না । মিথ্যা কথা বলতে বলতে ঝানু হয়ে গেছে । আমার কোন আপুটাপু নাই ।'' হা হয়ে যাওয়া কাকে বলে , আমার সামনে একটা আয়না থাকলেই আমি প্রাক্টিকালি দেখে ফেলতাম । ফারাবী ভাইকে ব্রাশফায়ার করার ইচ্ছেটাকে অনেক কষ্টে আটকে কোনমতে বললাম , '' তাহলে কয় ভাইবোন তোমরা ?'' '' দুই ভাইবোন । আমি আর ভাইয়া ।ফারাবী ভাইয়া ।'' আমি উঠে দাঁড়ালাম । আমার হাঁসফাঁশ অবস্থা হয়ে গেছে । আমি এই মুহূর্তে এখান থেকে চলে যাওয়াটাকেই ভাল সিদ্ধান্ত বলে বিবেচনা করলাম । কারন এই বাসায় আরও দুই চার মিনিট থাকলে আরও কি কি যে শুনতে হবে সেটা ভেবেই আমি ভীত এবং একই সাথে আতংকিত হয়ে গেলাম ! গলির মাথায় যাবার সময় দেখলাম ফারাবী ভাই পকেটে হাত ঢুকিয়ে সেই রকম ভাব নিয়ে হেটে আসছে । কথা বলব না , কিছুতেই বলব না , হয়ত বলতাম ও না , কিন্তু কেউ ডাকলে কি কথা না বলে থাকা যায় ? ফারাবী ভাই আমার দিকে এগিয়ে এসে বলল , '' তিহার সাথে কথা হয়েছে তোমার ?'' '' হয়েছে ।'' '' পড়াচ্ছ তাহলে ?" আমি নাক কান দিয়ে ধোঁয়া বের করতে করতে বললাম ,'' আপনি এরকম কেন ? তিহা নাকি আপনার গার্ল ফ্রেন্ডের বোন ? আমাকে এভাবে বোকা বানালেন কেন ?'' ফারাবী ভাই গোল গোল চোখে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকল । '' আচ্ছা আমি কিন্তু একবারও বলি নি আসলেই তুমি আমার গার্ল ফ্রেন্ডের বোনকে ...... আচ্ছা ঠিক আছে ধরলাম আমি বলেছি , কিন্তু দেখ আমার বোন মানে আমার তো গার্ল ফ্রেন্ডের ননদ , ননদ আর বোন কি আলাদা ? '' কলার ধরে ঝাঁকাতে ইচ্ছে করছিল খুব । কিন্তু এই ছেলের সাথে কথা বলে আমি আগাতে পারবোনা , তাই বাই বলে চলে আসাটাকেই ফরজ মনে করলাম । আর আই পি প্রেম পিরিতি । ৩ . পিথাগোরাসের বিশাল উপপাদ্যটা বুঝাতে বুঝাতে আমি আবিষ্কার করলাম , তিহার মনটা আজকে বেশ খারাপ । সে পড়ায় মন দিতে পারছে না । খুবই স্বাভাবিক , পড়ায় প্রতিদিন মন বসবে এমন কোন কথা নেই । মনের ও মুড বলে একটা ব্যাপার আছে । আমি পড়া থামিয়ে গালে হাত দিয়ে বললাম , '' উপপাদ্য টা ভীষণ পচা , তাইনা তিহা ? একদম বোরিং ।'' তিহা ফিক করে একটু হাসল । ও আমার কাছে কখনো কিছু লুকায় না । এবারো লুকোল না , মলিন গলায় বলল , '' আপু , মন খারাপ থাকলে ভাল পড়াগুলিও বোরিং হয়ে যায় ।'' কথা সত্য । কেন মন খারাপ সেটা জিজ্ঞেস করাটা ঠিক হবে কিনা ভাবতে ভাবতেই ও বলল , '' আপু জানেন , ভাইয়া না মাদ্রাজ যাচ্ছে আগামী মাসে , কি ডিগ্রি ফিগ্রি নিবে , আমি তো বুঝিনা । ভাইয়ার জন্যে অনেক খারাপ লাগবে আমার । ঝগড়া করলেও তো আমারই ভাইয়া ।তাই পড়াতেও মন দিতে পারছি না । '' কি বলে তিহা ? ফারাবী ভাই মাদ্রাজ কেন যাবে ? এত ডিগ্রি দরকার কেন তার ? আমার চোখ দুটো পিথাগরাসের উপপাদ্যের মাঝে অযথাই এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে লাগল । এতক্ষন শুধু ছাত্রীর মন খারাপ ছিল , তাও পড়া যা একটু আগাচ্ছিল , কিন্তু যখন আমার ও ভয়াবহ মন খারাপ হতে লাগল তখন আর পড়া কিভাবে আগায় ? '' তোমার মন যেহেতু খারাপ আজ বরং একটু রিল্যাক্স থাকো ,আমি আসি '' বলে আমি পালিয়ে গেলাম । কিন্তু নিজের কাছ থেকে নিজে তো পালানো যায় না । আমি জানতাম আমি ফারাবী ভাই কে পাব না , একদিন না একদিন আমাকে অনেক কিছু এই চোখেই দেখতে হবে । কিন্তু আমি তো একদিন একদিন করে বেঁচে থেকে অভ্যস্ত হয়ে গেছি , তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে কখনই বেশিদূর ভাবতে পারতাম না । হাসতে হাসতে দিন কাটিয়ে কখন যে তাকে হারাবার দিন এগিয়ে এল সেটা টের ই পেলাম না । এখন সে চোখের আড়াল হবে , দুদিন বাদেই অন্য কারো সম্পদ হবে । আর আমি ফারাবী ভাইকে না পাওয়ার লিস্টে যুক্ত হব সবার চোখের আড়ালে । আমি কিন্তু অল্পতেই কেঁদে চোখ লাল করার মেয়ে , কিন্তু আজ আমি একটুও কাঁদলাম না । আজ আমি ভীষণ পরিনত । ছোটবেলা থেকেই রাগ কন্ট্রোল করতে পারিনা আমি । খুব রাগ হলে চিৎকার করি , কিছুক্ষন পর যখন বুঝতে পারি যে চিৎকার করা ঠিক হয়নি তখন শব্দ না করে কাঁদি । আমার এতদিনের লুকোচুরি ভালবাসাটা হুট করে ভেঙ্গে যাওয়ায় যে কষ্ট আমার হচ্ছিল তা কিভাবে কিভাবে যেন রাগে রুপান্তরিত হয়ে গেল । সেই রাগে আমি না পারলাম চিৎকার করতে , না পারলাম কাঁদতে । ফলস্বরূপ পরদিন প্রচন্ড মাথাব্যাথায় ঘুম থেকে উঠলাম চোখ মুখ লাল করে । মাথাব্যাথায় রাতে এসে গেল সেই লেভেলের জ্বর । আমি প্যারাসিটামল নাপা ইত্যাদি ইত্যাদি সেবন করতে লাগলাম , এতদিনের অভিজ্ঞতা বলে তো একটা কথা আছে । পরের দিন সকালে কোন মাথাব্যাথা নেই , জ্বর নেই , কিন্তু এসিডিটির যন্ত্রণায় সোজা হতে পারলাম না । ভাবতে পারছিলাম না , কি পরিমান রাগটাই না করেছিলাম , মাথাব্যথা আর জ্বর দিয়ে বের হয়ে কুলাতে পারল না , এখন আবার এসিডিটি শুরু হয়েছে ! এরই মাঝে ডজনখানেক বার করে আম্মু আব্বু বলেছে ডাক্তারের কাছে যেতে , আমি ঘাড় বাকা করে বলেছি ,'' এমনেই সেরে যাবে ।'' বিকেল বেলায় যখন ১০০ ডিগ্রি জ্বর , হালকা মাথাব্যথা আর এসিডিটি তিনটাই হাজির হল , আম্মু তখন ভয় পেয়ে বলল ,'' রেডি হ ।'' আমি বিরক্ত হয়ে বললাম ,'' মরার জন্য ?'' '' থাবড়ায়া কানের পর্দাটা ফাটায় দিবো ।'' '' আচ্ছা দিও ।'' '' উঠতেছিস না কেন ? ডাক্তারের কাছে যাব চল ।'' ঘ্যানর ঘ্যানর চলতেই লাগল । শেষমেশ উঠলাম , ভাবলাম লাস্ট বারের মত তাকে দেখে আসিগে । আজকের পর আর কক্ষনো তার কথা ভাববনা । আম্মু কে বললাম , আমি একাই যেতে পারব । একা একা যেটা শুরু করেছিলাম , আজ কে একা একাই তার শেষ দৃশ্য টা দেখে আসি । ৪. ফারাবী ভাই গালে হাত দিয়ে চিন্তিত মুখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল , '' এই অবস্থা হলে হবে ?'' তার কথার টাইপ শুনলে মেজাজ তো আমার এমনি খারাপ ই হয় । অন্যদিন যদিও আড়াল করার চেষ্টা করি , আজ আর করলাম না , বললাম , '' সেটা দিয়ে আপনার কি ? ওষুধ লিখে দেন । চলে যাই ।'' '' আচ্ছা '' , প্যাড হাতে নিতে নিতে বলল ,'' মাদ্রাজ যাচ্ছি জানো তো ? '' '' নাহ , এলাকায় এই নিয়ে কোন ব্যানার দেখিনি ।'' '' ও আচ্ছা তিহা বলেনি তোমাকে তাহলে । আমি মাদ্রাজ যাচ্ছি এই মাসের শেষে । আম্মা তো খুব করে ধরেছে , বিয়ে করে যেতে হবে । তা না হলে নাকি আমি একবার উড়াল দিলে আর ফিরে আসব না ।'' আমি চুপ করে থাকলাম । মনে মনে বললাম ,'' ছ্যামড়া তোর আসার জন্যে কে মরতেছে ?'' হুম আমি ই তো মরতেছি । '' বিয়ে করে দূরে যাওয়ার ইচ্ছা আমার নাই , বুঝলা ইরা ? এঙ্গেজ করে রাখা যায় । তাতে রাজি হয়েছি । '' এবারো কিছু বললাম না । তবে মনে হতে লাগল , এর কাছে কি আমি সুস্থ হতে আসছি নাকি জলদি মরে যেতে আসছি ? এই ছেলে আমাকে এসব শুনাচ্ছে কেন ? '' দেশে আসার পরে জাঁকজমক অনুষ্ঠান করে বিয়ে করব । বিয়েতে তোমাকে একটা রোল দেওয়ার কথাও আমি ভেবে রেখেছি ।'' আমি সরাসরি তার চোখের দিকে তাকালাম ,'' তাই , না ?'' আমার তাকানোর ভঙ্গীতে ডাক্তার সাহেব ভড়কে গেলেন সেটা আমি বুঝতে পারলাম । কোনরকমে বলল , '' ইরা তোমার কি হয়েছে ? কি সমস্যা ? অসুস্থ লাগছে ?'' নিজের উপর নিয়ন্ত্রন হারিয়ে বলতে লাগলাম , '' এত কথা বলেন কেন আপনি ? আমার সমস্যা জানতে চান ? আমার সমস্যা কি সেইটা আপনি বুঝেন না ? মেডিকেল কলেজ থেকে কি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছেন ?মানুষের সাইকোলজি ধরতে পারেন না ? আমার কি সমস্যা সেটা কোন দিন বুঝবেন না আপনি , তাই প্লিজ জিজ্ঞেশ করবেন না । দয়া করে কোন কথা না বলে জ্বর আর এসিডিটির জন্য প্রেস্ক্রিপশান লিখেন ।'' এতগুলি কথা এক নাগাড়ে বলে দেখি , ফারাবী ভাই তখনও নিঃস্পৃহ চোখে তাকিয়ে আছে । আমি কেন এসব বললাম জানিনা , কেন জানি প্রচন্ড কান্না পেতে লাগল । কান্না চেপে রাখতে গিয়েও পারলাম না , চোখের সীমানা ছাড়িয়ে একুয়াস হিউমারদের স্বাধীন আনাগোনা শুরু হয়ে গেল । তাড়াতাড়ি চোখ মুছে তাকিয়ে দেখি সে কলমের ক্যাপ খুলছে , প্রেস্ক্রিপশান লিখবে । লেখা হয়ে গেলে সে কাগজটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিল । আমি প্রেস্ক্রিপশানটার দিকে একবার তাকালাম । তাকিয়ে থাকলাম এবং তাকিয়েই রইলাম । '' ইরা , তোমার অসুখের একমাত্র চিকিৎসা টা হল , রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠবার পর এবং রাতে ঘুমাতে যাবার আগে ডা. ফারাবী আহসানের হাতে দুইটা করে কান মলা খাওয়া । এই ওষুধ লাইফটাইম চালাতে হবে । অন্যথায় রোগির জীবন মরন সমস্যা হবে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ডাক্তার সাহেবেরও জীবনের আশংকা ঘটবে । '' প্রেস্ক্রিপশানের দিকে আমাকে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে সে আমার চোখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে বলল , '' কি হল ? '' আমি বোকার মত তাকিয়ে বললাম , '' আপনার লেখা বুঝতে পারছি না ।'' ফারাবী ভাই হতাশ হয়ে চুলে আঙ্গুল চালিয়ে বলল ,'' জীবনে বুড়া বয়সে একটা লাভ লেটার লিখলাম , তাও লেখাটা বোধগম্য হল না । এই দুঃখ কোথায় রাখি ? তবে একান্তই না বুঝলে কি আর করা , ওষুধের দোকানদারকে দেখাইও ।'' আমি ফোস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললাম , '' আমি লেখাটা কোনরকমে পড়তে পেরেছি । কথা হল , এসব ফাজলামির মানে কি ? আমার সাথে সেই কবে থেকে আপনি কেবল ফাজলামিই করছেন ,এমনটা কেন করেন ? আমি একটা মানুষ ,আমার এত সহ্য হয়না । '' সে কয়েক মুহূর্ত একদম চুপ । আমি বললাম ,'' কি ? কথা বলেন না কেন ?'' '' কি বলব আমি ? এই ক্লিনিকের প্রতিটা স্টাফ , কম্পাউন্ডার , নার্স এমনকি দারোয়ান চাচা পর্যন্ত বুঝে যে আমি তোমার উপর ড্যাম খেয়ে আছি , আর তুমি বুঝলা না ? কি জন্য বুঝলা না , সেটা তো আমি বুঝলাম না । '' আচ্ছা আসলেই কি আমার বুঝা উচিত ছিল ? আমার সাথে সে অনেক আজাইরা আলাপ করত , এগুলো কি ভালবাসত বলেই করত ? আসলেই মনে হয় আমার বুদ্ধি বয়সের সাথে ব্যাস্তানুপাতে বেড়ে যাচ্ছে ! আমি চোখ ছোট ছোট করে বললাম ,'' আমাকে না বিয়েতে কি একটা রোল দিবেন ?'' '' কেন ? কনের রোল ? কনে থাকতে হবে না ?'' ৫. ফারাবী ভাই কে আমি এখন শুধু ফারাবী বলে ডাকি , যদিও সে আমার থেকে বয়সে ভালই বড় । কিন্তু কি আর করব , বাগদানের পরে তো '' ভাই'' বলতে গিয়ে কানমলা খেলাম , সেই রিস্ক কি আবার নেয়া যায় ? যাই হোক , আমি এখন ফারাবীর সাথে বসে আছি । আমাদের মাঝে দূরত্বটাও আপেক্ষিক , হয়ত খুব কাছে আবার হয়ত অনেক দূরে । কারন মাঝখানে দেয়াল হয়ে আছে ল্যাপ্টপের স্বচ্ছ স্ক্রিন টা । ডাক্তার সাহেব বাগদান করেই মাদ্রাজে দৌড় দিয়েছেন কিনা তাই ! '' ম্যাডাম খুব খেপে আছেন । কি হয়েছে ?" '' তোমার মস্তিষ্ক হয়েছে ।'' '' কেন ? মাদ্রাজ চলে আসছি বলে আবার মেজাজ গরম? '' আমি দাঁত কিড়মিড় করে বললাম , '' একবার দেশে আসো , তোমার গায়ে আমি কালাসাবান ছুড়ে মারবো । এপ্রন থাকা অবস্থায় ই ।'' ফারাবী করুন মুখে বলল ,'' ঠিক আছে , আমি ঐ এপ্রন পরেই বাইরে যাব । সবাই বুঝুক জীবিত এবং বিবাহিতদের মধ্যে পার্থক্য ।'' '' চুপপ ! '' ফারাবী চুপ হয়ে মুচকি হাসতে লাগত । আর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম , কালাসাবান আমি ছুড়ে মারবই । সাইজ করা দরকার ওকে । এপ্রন নোংরা হবে হোক । আমি যেহেতু নোংরা করব , আমিই পরিস্কার করব , সমস্যা না । কথা হল, বাজারে এখন ভাল ডিটারজেন্ট কোন টা ? সার্ফ এক্সেল ?নাহ যাই , টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখতে হবে ! ---------------------------------------

<<<ছুঁয়ে জোছনার ছায়া >>>

<<< ছুঁয়ে জোছনার ছায়া >>> ১. মরিয়ম বেগম পান খাচ্ছেন | এসময়টা তার দিনের মধ্যে একটা অমূল্য সময় বলা যায় | যে পরিমাণে পান খায়,তাতে যা মনেহয় মাসে ১০০০ টাকা খরচই হয় তার পানসামগ্রীর পিছনে | যদিও তার টাকার কোন চিন্তা নেই | দরজা ঠেলে অর্নবের উকি দেয়া মাথাটা দেখে একটু বিরক্তিস্বরে বললেন,কিছু চাও? - আম্মা আমি কি ভিতরে আসব? - বাইরে দাড়াইয়া কথা বলা আমার অপছন্দ,জানোনা? অর্নব দরজাটা আগের মত চাপা দিয়ে এসে মায়ের পায়ে কয়েকবার সালাম করে হেসে দিল | - হাসো কেন,কি ঘটনা? - আম্মা আমার একটা চাকরি হইছে,তবে ততটা সুবিধার না | যেকোন সময় ছেড়ে দিতে পারি | - শুরুর আগেই ছাড়াছাড়ির কথা বলতেছ কেন,গাধা কোথাকার ! বাপের মত হইছ ! অর্নব হাসিটা এখনো থামায়নি,ভালই লাগছে হাসতে | - বোকা ছেলে,খালি হাসে | আমার এইপাশে পা উঠাইয়া ভালমত বস | কথামত অর্নব তাইই করল | মায়ের গা ঘেষে একটু আদুরে ভঙ্গিতে | - পান খাবা আব্বা? নতুন এক মশলা আনাইছি,খুব মজা | দাড়াও একবার খাও,তাইলেই মজা বুঝবা | অর্নব কেবল মাথা দুলিয়ে চলেছে | ওর খুব জানতে ইচ্ছে করছে,কতদিন পর মা ওকে 'আব্বা' বলে ডেকেছে | ডাকটা শুনলেনা গলা কেমন ভার হয়ে আসে | অতি আবেগেই হয়ত | - অর্নব,তোমার দু'ভাইদের খবর কি,তারা কেমন আছে? - আম্মা আপনি সারাদিন বাসায় থেকে আমাকে এই প্রশ্ন করতেছেন কেন | - তারা তো আমার সামনেই আসে না | চাকরি বাকরি,বউ পোলাপান নিয়ে ভারি ব্যস্ত | আমার কাছে আসার সময় কই? তুমিও কি বাসায় থাকো না? - আগামী ৭ দিন মানে ১ সপ্তাহ ধরে আমি বাসায় আসি নাই | কারণ এইরকম বাজারের মত বাসায় থাকতে একদম ভাল্লাগেনা | - ও,ভাল বলছ | - আম্মা আমার টিউশনি আছে,গেলাম | - পানটা খাবা না? - জ্বি দেন,খেতে খেতে যাই | শুধুমাত্র বসার ঘরটাই এত্ত সুন্দর করে কেউ সাজাতে পারে বিশ্বাস করাই কষ্টকর | বাব্বাহ্,এইনা হল বড়লোকি বাসা | টানা কয়েক মাসেও এই রুমের উপর একটুও বিস্ময় কমেনি অর্নবের | পড়াতে এলেই মনে ওলটপালট লেগে যায় রুমের প্রতিটা বস্তু দেখে | তবে টাশকি খাওয়া কথা হল,বড়লোক সাহেবের একমাত্র সন্তান এবং মেয়ে মানে তাশফি | এই মেয়ের কথাবার্তা,চালচলন তো পুরাই উল্টা | ক্লাস টেন পড়ুয়া এই মেয়ের সাথে চললে কে বুঝবে,এযে বিরাট রাজার একমাত্র রাজকন্যা | তবে অর্নবের অতটা টাশকি খেতে হয়নি | কারণটা ওর স্বভাবের | ওর খালি ঐ জড় চাকচিক্যের প্রতিই মনোযোগ অত্যধিক | চাকচিক্যের ভেতরের জীবদের নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই | "স্যার বসে আছেন কেন,রুমে আসেন" তাশফির ডাকে ঘোর ভাঙল অর্নবের,হ্যা আসছি | তাশফিকে দেখে অর্নব এক নিরব ঝামেলায় পড়ে গেছে | ঝামেলার কথাটা তো আর সরাসরি বলা যাবেনা,চুপ করে থাকাই নিরাপদ | তাই একে নিরব ঝামেলাই আখ্যা দিয়ে ফেলল অর্নব | আজ হঠাৎ এরকম কেন হয়ে গেল কে জানে | আসোলেই চোখ সামাল দেয়ার মত কঠিন কাজ,পৃথিবীতে খুব কমই আছে | ধ্যত্তরি যত্তসব ! - স্যার আপনার কি কিছু হয়েছে? একটু চমকে অর্নব বলল,নাহ্ কি হবে? কিছু না | ইচ্ছেকৃত হাসিটা দিতে গিয়েই ভালই ধরা খেল বেচারা | - স্যার মিথ্যা বলা মহাপাপ জানেন না? আচ্ছা,আমি বলি আপনার কি হয়েছে? - বল - আমি আজ শাড়ি পড়েছি,আপনার প্রিয় রঙের | চোখে কাজল দিয়েছি খুব যত্ন করে,এটাও আপনার পছন্দমত | আর এতে আমাকে খুব সুন্দর লাগছে তাই আপনি চোখ নামাতে পারছেন না | অর্নবের মুখ মিডিয়াম হা হয়ে গেছে | এত নরম ভাবে চরম ধরা জীবনে এই ফাস্ট | ও খোদা,এইটা কি মেয়ে না মহিলা ফেরেশতা ! ২. হামিদ সাহেব রুমে ঘুরেঘুরে কথা বলছেন | একা একা,নিজের সাথে | যখন ভীষন একা মনেহয় এই পৃথিবীতে,তখনি তিনি এরকম করতে থাকেন | ফলাফল,তিনি একটু একাকিত্বের মাঝেও সান্ত্বনা খুজে পান | দরজায় খটখট শব্দ হতেই কথা থামিয়ে দিলেন | তিনি মোটামুটি অবাক আর কি | আমার কাছে কি কারো আসার কথা ছিল,কে আসবে? আরেকবার শব্দ হল,খট খট খট ! হামিদ সাহেব তড়িঘড়ি করে দরজার ছিটকিনি খুলে ফেললেন | - আব্বা কেমন আছেন? হামিদ সাহেব যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না অর্নব এসেছে | - এতদিন পর বাপের কথা মনে হল তোর | অর্নব টুপ করে ঘরের মধ্যে ঢুকে একদম সটাং হয়ে শুয়ে পড়ল বিছানায় | খুব ঘুম পাচ্ছে ওর | - কিরে বেটা অসুস্থ নাকি? - নাহ্ - তবে শুয়ে পড়লি যে? আচ্ছা শুয়ে থাক,তোর জন্য লেবু চা করে নিয়ে আসি | আজ সকালে বাজার থেকে কিনেছি,একদম টাটকা লেবু | হামিদ সাহেবের ভীষন আনন্দ লাগছে | বাড়ি ছাড়ার পর একমাত্র এই ছোট ছেলেটাই তার খোজখবর রাখে | একদম ভালমত রাখে,কি লক্ষী একটা | চায়ের কাপে টানা দু'চুমুক দিয়ে অর্নব বলল,আব্বা আপনি না একা থেকে ভালই আছেন | আমিও আর থাকব না ভাবতেছি | - তাইলে থাকবি কই? - খালিদের বাসায় | কয়েকদিন ধরে তো ওর বাসাতেই আছি | আমার বন্ধুরা তো আর আমার মত বোকা না আব্বা | ওরা সবাই যে যার মত টাকা পয়সা কামিয়ে একদম পেটফোলা বড়লোক | - বাদ দে ! তুই যেমন আছিস খুব ভাল আছিস | সততাই সবকিছুর আগে | তারপরের কয়েকমিনিট কেটে গেল অস্বাভাবিক নিরবতায় | হামিদ সাহেব গভীর মনোযোগে ছেলেকে দেখছেন | চেহারায় কার যেন ছায়া আছে | কার হতে পারে? মরিয়মের নাকি ওর দাদির? যার মতই হোক,অর্নবটা দেখতে খুব সুন্দর হয়েছে | দেখলেই সুপুরুষত্বের তৃপ্তি এসে যায় | ৩. বসার ঘরে চোখ পড়তেই ভ্রু কুচকে গেল অর্নবের | আজ রাতে চাদঁ এর বদলে সূর্য উঠবে নাকি | ভাই-ভাবি,পোলাপান দেখি সব একখানে | মেজভাবি ওকে দেখা মাত্রই শুরু করে দিল সুপরিচিত ঘ্যানানি,এইযে টো টো বাবাজি বাইরে বাইরে কি কর সারাদিন? মদ জুয়া আর কত ! অর্নব খেপলো না,একদমই না | একটুতেই খেপার পাত্র ও নয়,বরং কেমন মজা লাগছে | - তোমার আম্মাজানকে পাওয়া যাচ্ছে না দুপুর থেকে | - হয়ত বাজারে গেছে আপকামিং পান মশলার খোজ করতে | এসে পড়বে সময়মত | - তা হলে তো হতই,কিন্তু চিঠি লিখে গেছে একটা ! - কি লিখছে? আমি বাড়ি ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছি,আর আসব না | এই টাইপের? - হুম -ও,তবে আমার এসে তো কোন কাজ হল না | আম্মার কাছেই আসছিলাম,পান খেতে | হরেক মশলা দিয়ে পান,খুব খেতে ইচ্ছে করছিল | থাক,যাই | মেজভাবি রাগে কটমট করছেন,যতসব আহাম্মকের পাল্লায় পড়েছি আমি ! বাড়ির সবগুলা একেকটা আস্ত আহাম্মক ! সোফার একপাশে গুটিসুটি মেরে বসে থাকা অর্নবকে দেখছে তাশফি,অনেকক্ষন ধরে | অর্নব মাথা নামিয়ে আছে, তাশফিকে দেখতে পায়নি | তাশফির খুব,একদম ভীষনভাবে ইচ্ছে করছে এই বোকাসোকা চেহারার ছেলেটাকে অনেক আদর করতে,ইচ্ছেমত | হঠাৎ এরকম ইচ্ছে হওয়ার কারণটা ও নিজেই জানেনা,অত জানতে ইচ্ছেও হয় না | সামনে দাড়িয়ে থাকা তাশফিকে দেখে একটু ঘাবড়ে অর্নব বলল,শাড়িটা এখনো পড়ে আছো? - হুম কেন,খুব বেশি সুন্দর লাগছে? - তোমার আব্বু কোথায়? - আব্বু আসবে কোথ্থেকে,আব্বু তো বিদেশ | - ওহ সরি,ভুল হয়ে গেছে | ইয়ে মানে আম্মু... - আমার বড়খালা আজ হসপিটাল থেকে রিলিজ পেয়েছে তো তাই অফিস শেষে আম্মু তার বাসায় গেছে | আজ রাতে ফিরবে না বলেছে | - তারমানে পুরা বাড়িতে তুমি একা? - হুম | না না,কাজের মেয়েটা আছে তো | - ভালই হয়েছে,বেশি লজ্জা পেতে হবে না | - বিড়বিড় করে কি বলছেন স্যার? - তাশফি আমি দু'প্লেট ভাত খাব | বাসায় আম্মা নেই তো তাই খেতে পারিনি....আর আমার ঐ বন্ধুর বাসায় গিয়ে দেখি তালা মারা | কোথায় গেছে কে জানে | দিতে পারবে,খুব খিদে লেগেছে জানো | - এক্ষুনি আনছি | এক দৌড়ে রান্নাঘরে এসে পড়ল তাশফি | আর এক সেকেন্ড ওখানে থাকলে,স্যার চোখের পানি দেখে ফেলত | একটা মানুষ এত সরল হয় কি করে? অতিরিক্ত মায়ায় পড়লেও যে চোখে পানি এসে ভরে যায়,তা আজ প্রথম জানলো মেয়েটা | রাস্তাটা এখনি কেমন খালি হয়ে গেছে | মানুষজন তেমন একটা নেই,আর কয়েকটা রিকশার এদিক ওদিক ছুটে চলা | পিচঢালা পথটায় মানুষ,রিকশা সবকিছুর ছায়া পড়ছে | জোছনা দিয়ে গড়া একেকটা ছায়া | আকাশে যে আজ বিশাল একটা চাদঁ,তাইতো এত জোছনা ! সেসব ছায়ার উপর নিশ্চুপ হেটে চলেছে একটা বোকাসোকা চেহারার ছেলে | ছেলেটানা একটু একটু করে ঘামছে | কারণ পাশে থাকা শাড়ি পড়া মেয়েটা তার একটা হাত শক্ত মুঠোতে ধরে আছে | যে মুঠো থেকেই ডানা ঝাপটাচ্ছে শুভ্র এক মায়াপাখি | -------------------

<<<< কষ্টের ভালোবাসা >>>>

<<< কষ্টের ভালোবাসা >>> আমি যে কাহিনী লিখবো সেটার শুরু ২০০৭ এর জানুয়ারী এর দিকে। একটা মেয়ে একটা ছেলেকে খুব ভালোবাসে। ছেলেটার নামে ছিল নিয়াজ। মেয়েটার আসল নামে দেওয়া পসিবল না তাই অন্য একটা নাম দিলাম মেয়েটার নাম দিলাম নিশি। নিশি যখন ক্লাস ৮ এ পড়ে তখন ওর স্কুলের একটা ছেলেকে অনেক ভালো লাগতো। ছেলেটা কে ও ১ম দেখে ২০০৭ র জানুয়ারীর দিকে। স্কুল এ তখন Sports চলছিল। Sports এর মাঝে সে তখন নিয়াজ কে ১ম দেখে তখন ওর খুব ভালো লাগে। এবং একদিন ও যদি স্কুলএ যাওয়া আসার মাঝে না দেখতো তার অনেক খারাপ লাগতো। কিন্তু কখনো নিয়াজ কে বলার সাহস হয় নাই। সব চেয়ে মজার বিষয় ছিল সে প্রথম নিয়াজের সত্যিকার নামের জানতো না। এবং নিশি ভাবতো নিয়াজও বুজি ক্লাস ৮ এ পড়ে কিন্তু এটা ভুল ছিলো। নিয়াজ ছিলো তখন ক্লাস ১০ এ সেটা নিশি বুজতে পারে যখন সে নিয়াজ কে দেখে সে Test এর Results নিতে দেখে। কিন্তু একটু মন খারাপ হলেও সে মেনে নেয়। সে তখন অনেক try করে ওর সাথে কথা বলতে কিন্তু পারে না। একটা সময় সে XM দিয়ে চলে গেল স্কুল থেকে। রেজাল্ট এর আগে কোন একদিন নিয়াজ কে সে দেখেছিল রোডে । কিন্তু কথা বলতে পারে নাই। নিয়াজ এর Result দিলো। সে জিপিএ ৫ পেলো S.S.C তে। নিশি অনেক খুসি হয় Result শুনে। নিয়াজ তখন এডমিসন নেয় Collage।কিন্তু নিশি আর কথা বলতে পারে নাই। এর পর একে একে ২০০৮ চলে যায় । ২০০৯ এর জুন মাসে নিশি নিয়াজ কে দেখে নিশির বাসার পাশে । তখন নিশি অনেক সাহস নিয়ে নিয়াজ এর সাথে কথা বলতে পারে। সেই দিন ফোন নাম্বার পায় ।তারপর নিশি নিয়াজ এর সাথে ফোন এ কথা বলতো। এবং বুঝাতে চাইতো সে যে তাকে লাভ করে। এবং নিয়াজও বুজতে পারে। তখন নিয়াজ নিশি কে বলে যে তার GF আছে। তখন নিশি অনেক ভেঙ্গে যায় । এবং নিশি অনেক কান্না কাটি করে। কিন্তু নিজেকে শক্ত করে। সে ভাবে নিয়াজ হয়তো মিথ্যা বলছে। কিন্তু একদিন নিয়াজ তার GF এর সাথে কথা বলায় । তখন নিশি বিশ্বাস করে যে নিয়াজ এর GF আছে। কিন্তু সে বুঝতে পারছিল না কি করবে। পরে সে নিয়াজ কে একদিন বললো। তখন নিয়াজ বলল দেখো ঠিক আছে তুমি আমাকে লাভ করো এতো দিন কিন্তু এখন তো আমার পক্ষে কিছু করা পসিবল না। কারণ আমি অন্য আর এক জন এর সাথে রিলেশনে । নিশি বলে আমি জানি তুমি রিলেশনে। আর আমি চাই না তুমি তাকে ছেড়ে আমার কাছে আসো। তুমি কি আমাকে তোমার ভালো বন্ধু হিসাবে রাখতে পারবা?? তখন নিয়াজ বলে ঠিক আছে আমি রাখবো আচ্ছা বেষ্ট ফ্রেন্ড। এই করে করে ২০১০ চলে যায় । নিয়াজ একটা কারণে H.S.C পরীক্ষা দেয় না। তার GF সেই বার H.S.C দিয়ে দেয়। নিয়াজ ২০১১ এ H.S.C দেয়। এর মাঝে ২০১০ এ নিশি H.S.C দিয়ে দেয়। এবং নিশিও জিপিএ ৫ পায়। নিশি কে অনেক support করতো নিয়াজ পড়ালেখা তে। ২০১১ এর দিকে। শুরু হয় তাদের friendship এর মাঝে ঝামেলা। নিয়াজ এর GF নিয়াজ এর সাথে নিশির ব্যাপার নিয়ে ঝঘরা করতো। সে ভাবতো নিশি বুঝি নিয়াজ কে নিয়ে যাবে তার কাছ থেকে। কিন্তু নিশির মাঝে সে চিন্তা কখনো ছিলো না। নিশি সেটা নিয়াজ এর GF কেও বলেছে। কিন্তু সে বিশ্বাস করে না। শেষ এ ওদের মাঝে নিশির কারণে ঝগরা হতো। তাই নিশি বলে থাক নিয়াজ বাদ দাও আমাদের ফ্রেন্ডশিপ রাখারও কোন দরকার নাই। Then ওদের ফ্রেন্ডশিপ ও শেষ হয়ে যায় ২০১১ এ। নিশি পুরা পাগলের মতো হয়ে গেছিল। তখন নিশি নিয়াজ এর GF র সাথে কথা বলতো। নিয়াজ এর GF তার সাথে অনেক সময় খারাপ ব্যবহার করতো । কিন্তু নিশি বলতো আপু প্লিজ আপনি বড় বোন হিসেবে কথা তো বলতে পারেন। কিন্তু একটা সময় সেও নিশির সাথে এ কথা শেষ করে দেয়। নিশি অনেক ভেঙ্গে গেছে। নিশি আজও নিয়াজকে লাভ করে।কারণ এটা ছিলল নিশির ১ম লাভ। নিশি কিছুতেই তাকে ভুলতে পারছে না। নিশি বুজতেও পারছে না কি করবে। সে জানে কোন লাভ নাই নিয়াজকে মনে রেখে…………কিন্তু নিশি পারছে না …………………

<<<< একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প >>>>

<<< একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প। >>> অয়ন মা বাবার একমাত্র ছেলে, ঢাবিতে চান্স পেয়েছে তাই খালার বাসায় উঠেছে । খালার ছেলে নেই মেয়ে আছে একটা আসার সময় শুনে এসেছে, মেয়েটা যে কলেজে উঠেছে সেটা জানেনা সে । সব সময় পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকত অয়ন তাই প্রেম নামক শব্দটা তার আশেপাশে আসেনি কিন্তু নীরাকে দেখে তার চোখে যেন দুনিয়ার সব চাইতে গুরুত্ব পূর্ণ জিনিসটা যে প্রেম সেটা মনে পরে গেল মানে লাভ এট ফার্স্ট সাইট যাকে বলে। ভার্সিটি তে প্রথম পড়া শোনা তাই একটু কমিয়ে দিল অয়ন। সারাদিন খালার বাসায় বসে থাকে নীরাকে দেখার আশায়। এদিকে নীরার কোন বিকার নেই কলেজে আসছে যাচ্ছে দেখা হলে কথাবার্তা বল এই টাইপ এভাবে প্রায় তিন মাস কেটে গেল নীরা কথাবার্তা সামান্য বাড়ালেও অয়ন সাহস পাচ্ছেনা তাকে কিছু বলার পাছে যদি খালাকে বলে দেই তাহলে সব শেষ । একদিন ভাগ্য সু প্রসন্য হল তার, নীরার সাথে কি একটা কাজে থাকে বাইরে যেতে বলে খালা। এক রিকশাতে পাশাপাশি সে আর নীরা, ভাবতেই মনটা খুশিতে ভরে উঠল অয়নের আসলে সে অপেক্ষা করতে করতে এতই অস্থির হয়ে উঠেছিল যে ছোট এই জিনিসটা ও থাকে আনন্দ দিচ্ছে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সে রিকশাতে মূর্তি হয়ে শব্দটি মুখ দিয়ে বের হচ্ছে না। অবশেষে নীরাই মুখ খুলল। -অয়ন ভাই, কি ব্যাপার আপনি এমন জবুথবু হয়ে আছেন কেন? -না, এমনি!! -শরীর খারাপ?? বাসায় চলে যাবেন?? -না না শরীর খারাপ হতে যাবে কেন?(এবার ঠিক হয়ে বসল সে পাছে না আবার নীরা সত্যি সত্যি তার শরীর খারাপ মনে করে) -তাহলে নিশ্চয় মন খারাপ আপনার!!! -হুমম, তা বলা যাই। -মানে, আপনার সত্যিই মন খারাপ!!! আমি জানি!!!! -আসলে নীরা আমার একটা কথা বলার ছিল!! -কাকে??? -না, মানে!! কাউকে না!! -আচ্ছা আপনি যে একটা ভীতুর ডিম সেটা আপনি জানেন?? -না, মানে তোমাকে আমার একটা কথা বলার ছিল!!!! -বলতে হবে না আমি জানি!!!!!!!! নীরার ফর্সা মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে উঠছিল, অয়ন আর কোন কথা বাড়ায় নি আস্তে করে নীরার হাত ধরল সে। সামান্য কেঁপে উঠল নীরা, চোখ দিয়ে পানি পরছিল তার……………………… নীরার বাবার অফিসে বসে আছে অয়ন। কি কারনে জানি তিনি ডেকে পাঠিয়েছেন অয়নকে। অয়নের চোখে এখন খালি আগামীর চিন্তা, নীরাকে নিয়ে নীরা ভার্সিটি ভর্তি হবে এবা সে পাশ করে ভাল জব করবে নীরাকে নিয়ে সুন্দর আগামি গড়বে…………।। -অয়ন, বাবা তোমার জন্য একটা চাকরির খবর এনেছি আমি। বেতন ভাল , থাকার জন্য বাসা দেবে তোমাকে তোমার পড়া শোনার ও কোন অসুবিধা হবে না, বাবা তোমাকে একটা কথা বলব??? -জি, বলেন খালু!! -ক্যারিয়ার সবার আগে, বাকিটা পরে জীবন এখনো অনেক বাকি। -জি, খালু আমি চাকরিটা করব। -কালকে থেকে জয়েন ডেট। -আচ্ছা, আমি কালকে থেকে যাব। খালুর কথার ইঙ্গিতটা ধরে ফেলেছে অয়ন তাই চাকরিটা করবে বলে দিয়েছে সে । উনি যা করছেন হয়তবা ভালর জন্য করেছেন এটা ভেবে সে বেরিয়ে পরল। আজকেই কাপড় চোপর গুছিয়ে খালার বাসা থেকে বেরিয়ে যাবে সে নীরা কাঁদছে তার রুমে একা একা, অয়ন এসেছিল কাপড় চোপড় ,বই পত্র নিয়ে যেতে ওর রুমে ঢুকেই অবাক হয়ে গিয়েছিল সে তারপর সব শুনে পাথর, যতক্ষন অয়ন ছিল সে অয়নের দিকে তাকিয়ে ছিল সে যেন আর দেখবেনা তাকে। অয়ন চলে যেতেই মার কাছে গেল সে – মা অয়ন ভাই চলে গেল কেন? -সে একটা চাকরি পেয়েছে, তোর বাবা চাকরিটা ধরিয়ে দিয়েছেন। -চাকরিটা কি উনার খুব দরকার ছিল??? -সেটা তোর বাবা ভাল জানেন!! আমার কাছে এসব বলতে আসবি না, তোর বাবার থেকে জিজ্ঞেস করে নিস। মেয়ের সাথে এই প্রথম রাগ দেখালেন তিনি। নীরার মনটা একেবারে ভেঙ্গে গেল। রুমে কাঁদতে কাঁদতে পুরনো দিন গুলোর কথা মনে পরে গেল তার ।অয়ন ভার্সিটি থেকে কখন আসবে সে অপেক্ষায় থাকত সে কখনো বের হত একসাথে এইখানে ওইখানে বেড়াতে যাওয়া খুন বড্ড মনে পরছে তার । অয়নের সাথে যেদিন প্রথম রিকশায় করে গিয়ে ছিল সেদিন রাতে ছাদে একসাথে বসে ছিল দুজনে । নীরা আর অয়ন ছাদে বসে ছিল একটু দূর করে পাছে খালা এসে পরেন এই ভেবে, নীরার কাছে চাঁদের আলোয় অয়নকে যেন কোন মায়াময় যুবকের মত লাগছিল যাকে সে হাজার বছর ধরে খুজেছিল। কেন জানি লাগছিল তার জন্যই অয়নের ঢাকা আসা তাদের পরিছয় যেন কোন অমোঘ নিয়মে বাঁধা ছিল। অয়নকে তার অবশ্য প্রথম দেখাতেই ভাল লাগেনি কেমন যেন বোকা বোকা টাইপ কিন্তু দেখতে দেখতে সে কেমন করে যেন সপ্নের রাজপুত্র হয়ে যাই তার কাছে। যাকে সে আপন করে পাবেই অয়নটার হাবভাবে বেশ বুঝা যেত তাকে সে পাগলের মত ভালবাসে কিন্তু নীরা পাত্তা না দেওয়ার ভাণ করত আসলে ওকে খুঁচিয়ে বের করতে চেয়েছিল সে কিন্তু বেচারা ভীতুর ডিমটা সেটা কখনই পারবেনা বলে একদিন মাকে বলে সে অয়ন ভাইকে নিয়ে বের হয় মা খুশি মনেই অয়নকে ডেকে দিয়েছিল। আবার ডুকরে কাদতেঁ লাগল সে………………।। বাবা কয়েকদিন ধরে ফোন করছেন বারবার বলছেন একটা ভাল দেখে স্যট বানাতে অফিসের ব্যস্ততায় একদম সময় করতে পারছে না।আজকে ফোন করার পর সে বাবাকে বলতেই বাবা বললেন সময় নেই চারদিন পর নীরার এঙ্গেজমেন্ট তুই থাকবি। বলেই বাবা কেটে দিলেন! অয়নের মাথায় যেন বজ্রপাত হল । চার বছর ধরে যার জন্য এত পরিশ্রম করছে চারদিন পর তার এঙ্গেজমেন্ট!!!!!!! এখন আর কিছুই করার নেই!!!!! নিয়তি তাকে নিয়ে এত বড় একটা খেলা খেলবে সে তা বুঝতেই পারেনি। সব হারানোর শোক থাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরল , কিন্তু মনকে শক্ত করল সে ভাবল আমার কিছুই করার নেই আর আজ আমি এক পরাজিত ……… নীরাদের বাসায় তার আগের রুমটাতে বসে আছে সে, তার মা বাবা আসবেন এটা তারা আগে জানাননি। যাইহোক মেহমান নেই তেমন একটা , আর মনে হয় বর আসেনি এখনো মাথা ধরেছে বলতেই খালা তার আগের রুমে গিয়ে শুতে বলল। এসে শুইনি সে বসে আছে আর বিষাদের সমুদ্রে সাতার কাটছে কতক্ষন ছিল বলতে পারবেনা শুধু দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে মাথা তুলল যা দেখল তার মাথায় আরেকবার বজ্রপাত হল, নীরা সামনে দাঁড়ানো। নীরার চোখে বিস্ময় সে টের পাওয়ার আগেই দেখে নীরা তার বুকে । এই মেয়ে করে কি? তার মান ইজ্জত আজ ধুলোয় মিটবে। বিহিত করতে হবে থাকে একটা -নীরা!!!! কি ব্যাপার?? তুমি এখানে কেন??? -কেন?? আমার আসতে মানা আছে নাকি(কান্না আর আনন্দ মিশ্রিত কন্ঠ নীরার) খটকা লাগল অয়নের -খালা,খালু আছেন আমার বাবা মা ও দেখলে কেলেংকারি হয়ে যাবে !!!!!!!!! -মা পাঠিয়েছেন আমাকে এখানে!!!!! -কেন????? -বললেন, যা তোর বর আগে অয়ন যে রুমে থাকত সে রুমে আছে…। অয়ন এবার বুক থেকে তুলে নিয়ে চোখের সামনে দাড়া করাল নীরাকে , যেন আকাশ থেকে পরি নেমে এসেছে। বিয়ের সাজে অসম্ভব সুন্দর লাগছে তাকে -এগুলো আমার জন্য সাজোনি তুমি???? ( দুস্টুমি হাসি অয়নের মুখে) -না, আমার বরের জন্য সেজেছিলাম। কোন ভীতুর ডিমের জন্য না।(নীরার চোখে কপট রাগ) -তাহলে আমি দেখব না তোমাকে!! (অন্যদিকে ফিরে গেল অয়ন) -না দেখলে আমার বয়েই গেছে( হাসিটা কোন মতে চাপাল নীরা)

<<< একটি মিথ্যে স্বপ্ন ও তার আকুতি >>>

<<< একটি মিথ্যে স্বপ্ন ও তার আকুতি >>> রাত শেষে পৃথিবীকে সর্বলোকে দৃশ্যমান করার মত পর্যাপ্ত আলো পুবের আকাশটা এখনো ছড়ায় নি।বাইরে তাকালে কিছুই স্পষ্ট দেখা যায় না।আবছা অন্ধকারের রেশ এখনো রাতের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।ইকরিটা ইদানিং বড্ড দুষ্ট হইছে।রাত আর প্রভাতের মাঝামাঝি একটা সময় আছে যখন ঘুমটা বেশ গভীর হয়।আর এই সময়টাতেই ইকরির চিল্লাচিল্লিতে বাসার সবার ঘুমের বারোটা বাজে।মাস চারেক আগে বড় ভাইয়া একটা টিয়া পাখি কিনছে,পাখিটা খুব সুন্দর করে কথা বলতে পারে। আমার পিচ্চি বোনটা আদর করে ওটার নাম রাখছে ইকরি।ওর ধারনা পাখিটা নাকি সিসিমপুরের ইকরির মত কথা বলে।আজও ইকরির চিল্লানিতেই ঘুমটা ভেঙে গেল। বেশ কিছুক্ষন ধরে চোখের পাতাযুগলের উপর জবরদস্তি চালালাম কিন্তু তারা তীব্র প্রতিবাদ জানালো।তাই খানিকটা বাধ্য হয়েই বিছানা ছাড়লাম।ধীর পায়ে হেঁটে গেলাম ইকরির কাছে,ডাইনিং রুমের পাশের বারান্দায়।আমাদের বাসার সবচেয়ে সুন্দর জায়গা এটা।এখান থেকে সামনে যতদূর চোখ যায় বিস্তৃত মাঠ......... আর সেখানে সবুজের ছড়াছড়ি,মনে হয় যেন বিশাল একটা সবুজ চাদর বিছানো হয়েছে।কতক্ষন তাকিয়ে আছি মনে নেই।কড়া রোদের ঝিলিকের উষ্ণ পরশ আমাকে সম্বিত ফিরিয়ে দিল।হঠাত্‍ করেই পাশের বিল্ডিংয়ে দৃষ্টিটা যাত্রা বিরতি দিল। বিল্ডিংটা প্রতিদিনই দেখি,নতুন কিছু নয়।তবে যা দেখে দৃষ্টি থমকে দাঁড়াল তা হল,বিল্ডিংটার বারান্দায় একটা লম্বামত ছেলে একটা পিচ্চিকে কি যেন দেখাচ্ছে। কি আর হবে আকাশ হয়ত!এটা আজব কোন দৃশ্য নয়,তবুও এত মনোরম ছিল দৃশ্যটা! হঠাত্‍ই হারিয়ে গেলাম আমার নিজস্ব কল্পনার ভুবনে......ঘুম ভেঙে বিছানায় স্বামী পুত্র কাউকেই না পেয়ে,খুঁজতে খুঁজতে চলে এলাম বারান্দাটায়।দেখি বাপ ছেলে মিলে সকালের প্রথম বাতাস স্নিগ্ধ অনুভূতি মাখিয়ে প্রতিটা নিঃশ্বাসের সাথে উপভোগ করছে।আমাকে দেখে বাবুর বাবা একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল, এই যে আলসে মেয়ে! ঘুমকুমার অবশেষে ছাড়ল তোমায় ? আমি উত্তর দিতে যাবো,এমন সময় ভাবনাচ্ছেদ ঘটিয়ে পিছন থেকে উষা বলল,এই আপু তুমি কি কানে তুলা দিয়েছ? মা ডাকছে তোমায়। কচুর ছড়া!!পৃথিবীতে কি ডাকার সময়ের অভাব পড়েছিল নাকি?এরপর ব্যস্ততার সাখে সখ্য করে আর যাইনি বারান্দায়।ভুলেও গেছলাম সেদিনের কথা । ঘটনাবহুল এই ছোট্র জীবনে প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন ঘটনা ঘটতেই থাকে।আর ঘটনাগুলো এত দ্রতু ঘটে যে ছোটখাট অতীত ঘটনা মনে রাখার অবকাশ আমাদের থাকেনা। বেশ কয়েকদিন পর কোন এক কারনে আবারো সকালে বারান্দায় গেলাম। আজো ছেলেটাকে দেখলাম তবে আজকে পিচ্চিটা নেই।মোটা ফ্রেমের চশমার নিচ দিয়ে ছেলেটা এমনভাবে বাইরে তাকিয়ে আছে, যেন আজই সে প্রথমবারের মত বাইরের জগতটাকে দেখছে।যে জগতে শুধুমাত্র তার একার আধিপত্য, যেখানে এই ব্যস্ত সংসারের বস্তা বস্তা চিন্তার লেশমাত্র নেই।আমিও কেন জানি নির্লজ্জের মত তাকিয়ে থাকলাম তার দিকে বেশকতক্ষন। নাহ্ তেমন নজরকাড়া সৌন্দর্যের অধিকারী নয় সে। তবে মুখটার মধ্য কোথায় যেন একটা অদ্ভুদ মায়া লেপটে আছে।একবার তাকালে তাকিয়েই থাকতে ইচ্ছে করে। এরপর প্রতিদিন সকালে উঠে বারান্দায় যাওয়া আর সেই মায়াময় আগুন্তুকের দিকে তাকিয়ে থাকা আমার প্রতিদিনের রুটিন হয়ে গেল।শুধু কি তাই!সে রীতিমত স্বপ্নের চড়ুই হয়ে আমার মনের চিলেকোঠায় এসে বাসা বাঁধল। দূর ছাই!এই এক ঘোড়ার ডিমের বিশ্রী বয়স,যাকে দেখি তাকেই ভালো লাগে।মনে হয় সবসময় স্বপ্নের পসরা সাজিয়ে বসে থাকি,কাউকে দেখলেই তাকে নিয়ে কল্পনার আকাশে উড়াল দিই। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হল ছেলেটা কোনদিন কৌতুহলবশতও আমার দিকে তাকায় নি।তাই একদিন দুষ্টুমি করে টিয়াকে শিস দেয়া শিখালাম।আর এই শিসের শব্দ শুনেই কোন একদিন টিয়াকে দেখার ছলে সে আমার দিকে একপলক তাকিয়েছিল।এরপর আর কোনদিন তাকে দেখিনি।আজো আমি রোজ প্রভাতে বারান্দায় যাই আর প্রতিটা মুহূর্তে অপেক্ষায় থাকি, একদিন আমি সত্যিই আবার দেখা পাবো তোমার।আবারো বিনিময় হবে ছোট্র একটা পলকের।আর সেখানে ঠাঁই করে নিবে হাজারো অব্যক্ত কথা। হে ক্ষনিকের খেলাঘরে গড়ে ঊঠা মনমন্দিরে আসন পাতা প্রেমদেবতা, তোমার কাছে আমার আকুল আকুতি.......আর একবার ফিরে এসে আমার মিথ্যে স্বপ্নগুলোকে রঙধুনুর সাত রঙে রাঙিয়ে দিয়ে যাও !